বায়ুবিদ্যুতে বড় সুখবর

বেসরকারি উদ্যোগে কক্সবাজারে দেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি থেকে বর্তমানে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে সব ধরনের নির্মাণ কাজ শেষে কেন্দ্রটি পুরো সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চীনের স্টেট পাওয়ার ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান উলিং পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডের অর্থায়নে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড। ৯০০ কোটি টাকায় এ প্রকল্পের সব যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে চীন থেকে। চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর ১৮ বছর ধরে কেন্দ্রটি থেকে প্রতি ইউনিট ১২ সেন্ট বা ১৩ টাকা ২০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

সফলভাবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ক্লিন এনার্জি থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন। কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর খুরুশকুল উপকূলে নির্মাণাধীন ওই কেন্দ্রে বায়ু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ২২টি টারবাইন স্থাপন করা হবে। মূলত বাতাসের সাহায্যে এ টারবাইন ঘোরার ফলেই উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ। এখন পর্যন্ত ১০টি টারবাইন স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাদের গনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, পর্যটন শহর কক্সবাজার শহরে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৪৫ মেগাওয়াট। দেশের সবচেয়ে বড় এ বায়ুকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে শহরের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পরও পাশর্^বর্তী এলাকায় তা সরবরাহ করা যাবে। বর্তমানে অন্তত ১২০ কিলোমিটার দূরে থেকে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এতে প্রায় লো-ভোল্টেজের শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে এখানকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎসেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর ৩১ মার্চ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। বাতাসের গতির ওপর নির্ভর করে প্রতিটি টারবাইন বা বায়ুকল থেকে সর্বোচ্চ ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে জমির কোনো ধরনের ক্ষতি হয় না। আশপাশের এলাকায় মাছের চাষ, ধানের চাষসহ সব ধরনের চাষবাস করা যায়।

ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জি লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুকিত আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মে মাসের শেষদিকে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পটি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, এ প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়ে চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে। বাতাসের গতির ওপর নির্ভর করে কেন্দ্রটি থেকে বছরে কমবেশি ১৪ কোটি ৫৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’