ভারত-পাকিস্তানের রোমাঞ্চকর পাঁচ ওয়ানডে

ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ সবসময়ই থাকে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল ফের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আজ। সেটাও আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে। এই ম্যাচের আগে দুই দলের রোমাঞ্চকর সেরা পাঁচ ওয়ানডে তুলে ধরা হলো দেশ রুপান্তরের পাঠকদের জন্য।

১৯৭৮: ভারত ৪ রানে জয়ী

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ যে ক্রিকেট বিশ্বে নতুন এক অধ্যায় রচনা করবে সেটার ইঙ্গিতটা পাওয়া গিয়েছিল দুই দেশের প্রথম মুখোমুখি দেখায়ই। ১৯৭৮ সালের সেই ম্যাচটি ছিল ৪০ ওভারের। ভারতের ছুড়ে দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল পাকিস্তান। ৫০ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন মজিদ খান। কিন্তু রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি পাকিস্তান। ২ উইকেট হাতে থাকলেও জয় থেকে মাত্র চার রান দূরে থাকতে শেষ হয় তাদের ইনিংস। ব্যাট হাতে ৫১ রানের পর বল হাতেও দুইটি উইকেট নিয়েছিলেন মহিন্দর অমরনাথ। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছিল তারই হাতে। এই ম্যাচেই একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক কপিল দেবের।

১৯৮৬: শেষ বলে মিয়াঁদাদের ছক্কা, পাকিস্তানের ১ উইকেটের জয়

বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েই দুই হাত তুলে জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই খেপাটে দৌড় এখনো স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে ক্রিকেট-বিশ্বে। অস্ট্রেলেশিয়া কাপের ফাইনালে জয়ের জন্য শেষ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল চার রান। উত্তেজনা-রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচের শেষ বলে ভারতের চেতন শর্মাকে ছক্কায় উড়িয়ে পাকিস্তানকে অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দিয়েছিলেন মিয়াঁদাদ। ১১৪ বলে ১১৬ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছিল তারই হাতে।

সুনীল গাভাস্কারের ৯২, কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের ৭৫ ও দিলীপ ভেঙ্কসরকারের ৫০ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে পাকিস্তানকে ২৪৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দিয়েছিল ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আসা-যাওয়ার মিছিলেই শামিল হয়েছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু মিয়াঁদাদ প্রায় একক প্রচেষ্টায় এক উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছিলেন পাকিস্তানকে। পাকিস্তানের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছিলেন ওপেনার মহসিন খান।

১৯৯১: পাকিস্তান ৪ রানে জয়ী

উইলস ট্রফির ম্যাচে ২৫৮ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবেই করেছিল ভারত। রবি শাস্ত্রী আর বিনোদ কাম্বলির ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি হয়তো অনায়াস জয়ের আশাই জাগিয়েছিল ভারতীয় শিবিরে। কিন্তু সেই ভালো শুরু শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের অনেকটাই কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। কিন্তু জয় থেকে মাত্র চার রান দূরে থাকতেই শেষ হয়ে যায় নির্ধারিত ৫০ ওভার। ৯১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা পেয়েছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার আমির সোহেল। ২৪ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ইমরান খান।

২০০৪: ভারত ৪ রানে জয়ী

করাচির এই ম্যাচে অসম্ভবকে প্রায় সম্ভবই বানিয়ে ফেলেছিলেন ইনজামাম-উল হক। তার ব্যাটে ৩৫০ রানের দুরূহ লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল পাকিস্তান। ১০২ বলে ১২২ রানের দুর্দান্ত এক ঝড়ো ইনিংস খেলে ভারতীয় বোলারদের নাকাল করে ছেড়েছিলেন ইনজামাম। শেষ পর্যন্ত তিনি উইকেটে থাকতে পারলে হয়তো জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ত পাকিস্তান। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে ইনজামাম আউট হয়ে যাওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ভারতের হাতে। তার পরও শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন আবদুল রাজ্জাক (২৭) ও মঈন খান (১৬)। কিন্তু জয় থেকে পাঁচ রান দূরে থাকতেই শেষ হয় নির্ধারিত ৫০ ওভার। হেরে গেলেও ম্যাচসেরার পুরস্কারটা উঠেছিল পাকিস্তান অধিনায়ক ইনজামামের হাতে।

এর আগে রাহুল দ্রাবিড়ের ৯৯ ও বীরেন্দ্র শেবাগের ৫৭ বলে ৭৯ রানের ঝড়ো ইনিংসটির সুবাদে স্কোরবোর্ডে ৩৪৯ রান জমা করেছিল ভারত।

২০১৪: আফ্রিদির টানা ২ ছক্কা, পাকিস্তানের ১ উইকেটের জয়

মিরপুরে এশিয়া কাপের ম্যাচে ২৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২ উইকেট হাতে নিয়ে ১০ রান। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের প্রথম বলে সাঈদ আজমলকে হারিয়ে তখন ভীষণ চাপে পড়ে যায় দলটি। তবে তাদের আশা বেঁচে ছিল, কারণ বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান শহিদ আফ্রিদি যে ছিলেন ক্রিজে। পরের বলে জুনাইদ খান সিঙ্গেল নিয়ে তাকে স্ট্রাইক দেন। এরপর টানা দুই ছক্কা মেরে ভারতের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে পাকিস্তানকে ১ উইকেটের চমৎকার জয় এনে দেন আফ্রিদি। ৭৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন অবশ্য মোহাম্মদ হাফিজ। ভারত আড়াইশর কাছাকাছি পুঁজি পেয়েছিল রোহিত শর্মা, আম্বাতি রায়ডু ও রবীন্দ্র জাদেজার ফিফটিতে।