এক সপ্তাহ ধরে চলছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ। চলমান এ যুদ্ধে প্রতিনিয়ত নিহত হচ্ছে দুই পক্ষের মানুষ।
প্রশ্ন উঠেছে ইসরায়েলে নজিরবিহীন এ হামলার সক্ষমতা বা প্রশিক্ষণ পেল কোথায় হামাস? এই ঘটনার বিশ্লেষণ করেছে মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএন। সংস্থাটির তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে যে বছরজুড়ে ইসরায়েল সীমান্তেই হামলার প্রশিক্ষণ নিয়েছিল সশস্ত্র সংগঠন হামাসের যোদ্ধারা।
সম্প্রতি হামাসের যোদ্ধাদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয়ার দুটি ভিডিও ফুটেজ আলোচনায় এসেছে। যারমধ্যে একটি দুই বছর আগের এবং একটি ২০২২ সালের।
ভিডিওতে দেখা যায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েলিদের ভবনে হামলা চালিয়ে শত্রুদের বন্দি করছেন হামাস যোদ্ধারা। আবার ইসরায়েলি বিল্ডিংগুলিকে লক্ষ্য করে রকেট ছুড়ছেন তারা। মূলত এগুলোর সবই ছিল হামাস যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ। আর ইসরায়েলিদের ভবন ও শত্রু সবই ছিল নকল।
অপর আরেকটি ভিডিও এক বছরেরও বেশি সময় আগে করা। তাতে দেখা যায় হামাস যোদ্ধারা প্যারাগ্লাইডারদের সঙ্গে টেক-অফ, ল্যান্ডিং এবং হামলার অনুশীলন করছেন। আর গত ৭ সেপ্টেম্বর একই কায়দায় ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছিল হামাস এবং প্রশিক্ষণের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, ভিডিও ধারনের স্থানটি ছিল হামাস যোদ্ধাদের সদ্য নির্মিত একটি প্রশিক্ষণ শিবির। এটি গাজা এবং ইসরায়েল সীমান্তবর্তী এরেজ ক্রসিংয়ের খুব কাছেই বানানো হয়েছিল। আর গত সপ্তাহে ওই শিবির থেকেই ইসরায়েলে ঢুকে পড়েন হাসামযোদ্ধারা। এরপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১৩০০ জনেরও বেশি লোককে হত্যা করে তারা।
সিএনএন বলছে, ইসরায়েলে হামলার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে গাজাজুড়ে কমপক্ষে ছয় স্থানে শিবির বানিয়েছিলো হামাস। এই ছয় প্রশিক্ষণ শিবিরের মধ্যে দুটি গাজা–ইসরায়েল সীমান্ত থেকে মাত্র এক মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। যেগুলো খুবই সুরক্ষিত, সর্বদা ইসরায়েলি সেনাদের টহল থাকে। বাকি শিবিরগুলোর একটি মধ্য গাজায় এবং বাকি তিনটি দক্ষিণ গাজায়।
অর্থাৎ হামাস সমতল ভূমিতে ইসরায়েলের নাকের ডগায় বসে দুই বছর ধরে প্রশিক্ষণ চালিয়ে গেছে অথচ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও চৌকস ইসরায়েলি গোয়েন্দা বাহিনী টেরই পায়নি।
দুই বছরের স্যাটেলাইট ইমেজ, সিএনএনও পর্যালোচনা করেছে, ছয়টি চিহ্নিত সাইটের কোনোটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের কোনো ইঙ্গিত দেখায়নি।
সিএনএন বলছে, হামাসের প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো সবই অভিন্ন ধারায় তৈরি, একই কাঠামোতে। শিবিরগুলো প্রত্যেকটি চারপাশ বিশাল মাটির সোপান দ্বারা বেষ্টিত, যা ক্যাম্পের বিল্ডিংগুলোর চেয়ে লম্বা। এ ছাড়া বেশিরভাগ শিবিরেই ছাদ নেই। কিছু শিবিরের গেট এবং বেড়া থাকলেও পাকা রাস্তা নেই।
কাছাকাছি থেকেই প্রশিক্ষণ নিলেও টের পায়নি ইসরায়েল। এমন ব্যর্থতার বিষয়ে সিএনএনকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ)আন্তর্জাতিক মুখপাত্র লে. কর্নেল জোনাথন কনরিকাস বলেন, এসব তথ্য ‘নতুন কিছু নয়’। হামাসের ‘অনেক প্রশিক্ষণ এলাকা’ রয়েছে। গত কয়েক বছরে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অনেক প্রশিক্ষণ এলাকা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গত দুই বছরে হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর বড় কোনো সংঘাত হয়নি। এ সুযোগে ‘বেসামরিক স্থাপনার’ আদলে হামাস হয়তো প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তুলেছে।