বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সিনেমাটি মুক্তির পর অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।
নুসরাত ফারিয়ার ভাষ্যে, এই মুহূর্তের অনুভূতিটা যে কেমন, সত্যি বলে বোঝাতে পারব না। অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। আমার এত দিনের ক্যারিয়ারে আর কোনো কাজে এত সাড়া পাইনি। দর্শক আমার অভিনয় পছন্দ করেছেন, সে কথা যেভাবে আবেগ মিশিয়ে আমাকে জানাচ্ছেন, ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এক কথায় বলতে চাই, আমার পরিশ্রম বৃথা যায়নি। আর অভিনয় না করলেও কোনো আফসোস থাকবে না।
চরিত্রটি নিয়ে নিজের চ্যালেঞ্জ জানাতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, শেখ হাসিনার চরিত্র পর্দায় তুলে ধরা কম চ্যালেঞ্জিং নয়। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেই পাওয়া। এক সাক্ষাতে তিনি বলেছিলেন, ‘যা করবে মন থেকে করবে, তাহলেই প্রত্যাশা পূরণ হবে।’ তার সেই কথা আর পরিচালকের নির্দেশ মেনেই সাবলীলভাবে অভিনয় করে গেছি। যে সময়টা ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে আজকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তখনকার শেখ হাসিনাকে মেলানো যাবে না। একটি পরিবারের সাধারণ মেয়ের মতোই ছিল তার জীবনযাপন। যাকে দেখে মনে হবে, প্রত্যেক মেয়ের মধ্যেই একজন করে শেখ হাসিনা আছে।
ছবিটির জন্য নুসরাত ফারিয়াকে অডিশন দিতে হয়েছিল। তিনি কখনো কোন কাজের জন্য অডিশন দেননি জানিয়ে বলেন, কোনো দিন তো অডিশন দিয়ে কাজ করিনি। প্রথম সিনেমা করার সময়ও সেটি হয়নি। হঠাৎ একদিন ছবিটির অডিশনের জন্য বলা হয়। বলা হলো নির্দিষ্ট তারিখে একটি তাঁতের শাড়ি পরে নো মেঅকাপ লুকে হাজির হতে। সকাল ৮টার দিকে আমাকে বিটিভির কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছিল। একটু টেনশন কাজ করাটাই স্বাভাবিক। কিছুটা ভয়ও কাজ করছিল। কারণ কোন চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে বলা হয়েছে, সেটিও আমি জানি না। সেটি জানলে অন্তত একধরনের প্রস্তুতি নিতে পারতাম নিজের মতো করে। আমাকে একটি স্ক্রিপ্ট পড়তে বলা হলো। পড়লাম, কিন্তু তখনই কোনো সিদ্ধান্ত পেলাম না। তারা আমাকে বললেন, অপেক্ষা করুন, পরে জানানো হবে। মনে মনে ভাবলাম, আমার কী আর হবে! কারণ আমি জানতে পেরেছিলাম প্রায় সাড়ে ৩০০ শিল্পী অডিশন দিয়েছেন এই চরিত্রের জন্য। পরে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমার শুটিং করতে চলে যাই। যেখানে মোবাইল ফোনের কোনো নেটওয়ার্ক নেই। তাই খবরটি জানানোর জন্য স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফোন করা হয় যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে আমাকেই নির্বাচন করা হয়েছে। তখন আমার চিৎকার শুনেছিল সুন্দরবনের বাঘ, ভালুক, হরিণ! এই ঘটনা আমার শিল্পীজীবন শুধু নয়, সমগ্র জীবনের জন্যই অন্যতম প্রাপ্তি।
শুক্রবার দেশের ১৫৩ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’। এতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। শেখ হাসিনার একটি চরিত্রে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া ও বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন নেছার বড়বেলার চরিত্রে অভিনয় করছেন নুসরাত ইমরোজ তিশাসহ শতাধিক অভিনেতা। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির বাজেট ছিল ৮৩ কোটি টাকা। এটি পরিচালনা করেছেন ভারতের খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।