মোরসালিনকে চান না কাবরেরা!

মালদ্বীপের মাটিতে স্বাগতিকদের হার বঞ্চিত করে দু'দিন আগে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথমপর্বের প্রথম লেগে ১-১ ড্রয়ে বেঁচে আছে পরের ধাপে খেলার আশা। সেক্ষেত্রে অবশ্য ১৭ এপ্রিল ঘরের মাঠে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। এএফসির নিয়ম অনুযায়ী অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল করার বাড়তি সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। ফলে গোলশূণ্য ড্র হলেও লাভ হবে না। কিংস অ্যারেনায় তাই জিততেই হবে। এমন 'মাস্ট উইন' ম্যাচের আগে ফুটবল অঙ্গনে একটা প্রশ্নই ঘুড়ছে, সেই ম্যাচের জন্য কী স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিনকে দলে ফেরাবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে হতাশ হতে হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কোচ চান না গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলে নতুন করে কাউকে যুক্ত করতে। তবে সরাসরি কোচের ভাবনাটা জানা যায়নি।

বসুন্ধরা কিংসের হয়ে এএফসি কাপের ম্যাচ খেলে মালদ্বীপ থেকে ফেরার পথে ৬৪ বোতল মদ নিয়ে অবৈধভাবে দেশে ফেরার পথে মোরসালিন ও রিমন ধরা পড়েন অন্য তিন সতীর্থের সঙ্গে। এই ঘটনায় ক্লাব তাৎক্ষনিকভাবে পাঁচ ফুটবলারকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও কিংসের অনুসরণ করে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দলে রাখেননি খেলোয়াড়দের। তবে গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, তপু বর্মণ, মোরসালিনদের অনুপস্থিতি মালেতে ১২ অক্টোবরের ম্যাচে ভালোই ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ মুহূর্তে বদলী সাদউদ্দিন সমতাসূচক গোল না করলে হারের তেতো স্বাদ নিয়েই ফিরতে হতো বাংলাদেশকে। ওই ম্যাচের পরের দিন বসুন্ধরা কিংস পাঁচ ফুটবলারকে আর্থিক জরিমানা ও নানা মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে। জিকো, তপু ও তৌহিদুল আলম সবুজকে নানা মেয়াদে নিষিদ্ধ ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। তবে মোরসালিন ও রিমনকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। অর্থাৎ মাঠে খেলতে তাদের বাধা নেই। এ কারণেই মোরসালিনকে ১৭ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দেখতে চায় ফুটবল অঙ্গনের অধিকাংশ মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাফুফের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'বাফুফে কখনোই কোচের ওপর দিতে দল গঠনে হস্তক্ষেপ করে না। তবে ১৭ অক্টোবর ম্যাচটা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অ্যাওয়ে ম্যাচে মোরসালিনের জায়গায় খেলা ফাহিমকে ভুগতে দেখেছি। সে অনেকগুলো সুযোগ নষ্ট করেছে। মোরসালিন থাকলে নিশ্চয় সেগুলো থেকে গোল আসতো। এ অবস্থায় দলে মোরসালিনকে বড্ড প্রয়োজন।' বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার অবশ্য জানিয়েছেন, নতুন কোন খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভূক্ত করার ব্যাপারে কোচের কাছ থেকে কোন অনুরোধ আসেনি তাদের কাছে, 'দলের ব্যাপারে সকল সিদ্ধান্ত কোচেরই। তিনি কাকে খেলাবেন, কাকে খেলাবেন না সে ব্যাপারে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। ১৭ অক্টোবর হোম ম্যাচের আগে কোচ আমাদের কাছে নতুন কোন ফুটবলারকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে কিছুই বলেননি। সেক্ষেত্রে মোরসালিন বা অন্য কারো খেলার সুযোগ দেখছি না।'

কোচের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না টিম ম্যানেজমেন্টেরই এক প্রভাবশালী সদস্য। গতকাল নাম প্রকাশ না করে সেই ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'মালেতে আমাদের দুর্বলতাগুলো প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছিল। কেবল মোরসালিনের পজিশনে নয়, গোলকিপিং ও ডিফেন্সেও জিকো ও তপুর অনুপস্থিতি বোঝা গেছে। বলতে পারেন ভাগ্য জোড়ে হার এড়াতে পেরেছিলাম। আসার পথে কোচকে মোরসালিন ও রিমনের ব্যাপারে তাদের ক্লাবের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলে, তিনি একদমই আগ্রহ দেখাননি। যারা আছেন তারাই নাকী কোচের কাছে সেরা! আমার কথা হচ্ছে, ১৭ অক্টোবর ম্যাচে আল্লাহ না করুক খারাপ কিছু যদি হয়, তবে কোচের তো কিছু যাবে আসবে না। ও এই চাকুরি হারালে অন্য কোথায় চাকুরি নিয়ে চলে যাবে। যা ক্ষতি হওয়ার সেটা হবে বাংলাদেশের। দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক নির্বাসনে চলে যেতে হবে।'

এ ব্যাপারে দেশ রূপান্তর একাধিকবার কাবরেরার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তবে কোচ সন্তর্পনে এড়িয়ে গেছেন।