‘মুজিব’ হয়ে শুভর ক্যারিয়ারে বসন্ত

ঢাকাই সিনেমার প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা আরিফিন শুভ। ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর মতো হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বেছে বেছে ভালো নির্মাতা ও ভালো বাজেটের সিনেমাতেই তিনি চুক্তিবদ্ধ হন। তবে তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে পারেনি। তার অনেক পরে সিনেমা জগতে এসে বাজিমাত করেছেন শরিফুল রাজ, আফরান নিশোরা। শুভর হাতে এখন নতুন সিনেমাও খুব একটা নেই। মুক্তির অপেক্ষায় আছে রায়হান রাফির পরিচালনায় ‘নূর’ ছবিটি। সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ই ছিল তার তুরুপের তাস। এই সিনেমাটির ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছিল আরিফিন শুভর ক্যারিয়ার। তাই ছবিটি ভালো করতে তার চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না। মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়া এই সিনেমার জন্য শুভ তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি সাধনা ও শ্রম দিয়েছেন। তারপরও সমালোচকদের মন ভরাতে পারেননি ‘মুজিব’-এর ফার্স্ট লুক ও টিজারে। তারপরও হাল ছাড়েননি এই হ্যান্ডসাম নায়ক। জানপ্রাণ ঢেলে দিয়েছেন প্রচারণায়। শুভর ভাষ্যমতে, একটা দিন তো সকাল থেকে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি শুধু ইন্টারভিউ দিয়ে গেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে। অবশেষে সিনেমাটি মুক্তির পর যেন সেই বাজি জিতে গেলেন শুভ। ‘মুজিব’ মুক্তির পর থেকে চারদিকে এখন শুধু এই অভিনেতার জয়জয়কার। এই ছবির ব্যাপক সাফল্যের সুবাদেই ক্যারিয়ারে আবারও নতুন বসন্তের হাওয়া লাগবে বলে ধারণা করা যায়।

একটি জাতির জনকের বায়োপিক বলে কথা। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এ দেশের মানুষের যে আত্মার বন্ধন তা যেন আরও একবার প্রমাণিত হলো। সারা দেশে চলছে বাংলাদেশ-ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমা ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’। ছবিটি দেখে প্রায় প্রতিটি দর্শকই কাঁদতে কাঁদতে সিনেমা হল ত্যাগ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক দর্শক শুভর অভিনয়ের প্রশংসাও করছেন আলাদাভাবে। কারণ এই ছবির সিংহভাগে তার উপস্থিতি। তিনি যদি অভিনয় দিয়ে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য না করতে পারতেন তবে ছবিটির সাফল্য অনেকাংশেই ব্যাহত হতো। সেই আকাশসম চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুভ কাজ করেছেন এবং সেই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছেন।

ছবিটির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয় গত বৃহস্পতিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং উপস্থিত থেকে সিনেমাটি দেখেন। নিজের বাবার এমন বর্ণিল জীবন তার সামনে আরও একবার মূর্ত হয়ে ওঠে। এমনকি নিজের বাবার যে ছোটবেলার গল্প তিনি এতদিন শুনেছেন তাও যেন তার চোখের সামনে! বাবা একটি জাতি উপহার দিলেন, তার পেছনে মায়ের অবদানের চিত্র দেখলেন দুই চোখ ভরে। দেখলেন নিজেকে আরেকবার নুসরাত ফারিয়ার চরিত্রের মধ্য দিয়ে, আরও দেখলেন ১৯৭৫-এর আগস্টের সেই বর্বরতার চিত্র। যা এতদিন তিনি শুধু মানুষের মুখেই শুনেছেন, কারণ তখন তিনি আর ছোট বোন শেখ রেহানা ছিলেন বিদেশ বিভুঁইয়ে। ছবি দেখে তার কান্না আটকায় এমন সাধ্য কার! এ তো হওয়ারই ছিল। ছবি দেখে প্রধানমন্ত্রী শুভকে বলেন, কীভাবে করলে! এই কথাটিই শুভর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি বলে তিনি স্বীকার করেন।

সেদিন সিনেমা হল যেন হয়ে উঠেছিল শোকের মিছিল। অসংখ্য জনপ্রিয় তারকা ছবিটি দেখেছেন সেদিন। আর প্রতিটি তারকা বেরিয়েছেন কাঁদতে কাঁদতে। ডলি জহুরের আহাজারি যে দেখেছে সে সহজেই অনুমান করতে পারবে কেমন ছিল এই ছবির আবেদন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমারই ছবি দেখার পর কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা ভাবছি। উনার এখন কেমন লাগছে।’

জনপ্রিয় নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুও কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘ছবিটি দেখার পর প্রথমেই যে কথাটি মাথায় এসেছে, সেটি হলো জয় বাংলা, জয় শেখ হাসিনা। প্রধামন্ত্রীকে ধন্যবাদ এমন একটি ছবি করে দেওয়ার জন্য। উনাকে কীভাবে ধন্যবাদ দেব আমার জানা নেই। অনেক বছর পর একটি পূর্ণাঙ্গ ভালোমানের সিনেমা দেখলাম। শুভ, তিশা, ফারিয়া, দীঘি প্রত্যেকে ভালো অভিনয় করেছে। নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল অসম্ভব ভালো নির্দেশনা দিয়েছেন।’

অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা অঞ্জনা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের ছবিটি দেখা উচিত। যারা বাংলাদেশের ইতিহাস জানেন না তারা চাক্ষুস ইতিহাস দেখতে পাবেন।’

আবেগতাড়িত হয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর বলেন, ‘সর্বোপরি ছবিটি খুব ভালো হয়েছে। আরিফিন শুভ বঙ্গবন্ধুকে কপি করেননি, কিন্তু তিনি তাকে অনুভব করে সততার সঙ্গে কাজটি করেছেন, সেদিক দিয়ে শুভ সফল।’

চিত্রনায়িকা ও শিল্পী সমিতির নেতা নিপুণ চোখ ছলছল অবস্থায় বলেন, ‘ছবিটি দেখে যে অনুভূতি হয়েছে, তাতে এখন কথা বলতে পারছি না। একটা কষ্ট বুকে চেপে আছে।’

এ প্রজন্মের অভিনেতা ভাবনা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ অনুভূতি একজন বাংলাদেশি হিসেবে। অভিনেতারা সবাই কত কষ্ট করেছে, সেটা পর্দায় প্রকাশ পাচ্ছে।’