পুলিশিং ডে ও দুর্গাপূজা করতে এক প্রতিষ্ঠানের কাছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা চেয়ে ওসির চিঠি

একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন সংযোগ কর্মকর্তার কাছে পুলিশিং ডে ও দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল চেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির চিঠি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে। তবে ওসি নাজমুল কামাল এ ধরনের চিঠি দেননি এবং এটি সুপার এডিটিং ও সাইবার ক্রাইম বলে দাবি করছেন।

হবিগঞ্জের অলিপুরে প্রান গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার দীপক কুমার দেবের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানের পিআরও সুমন সরকারের কাছে শায়েস্তাগজ থানার ওসির সাক্ষরিত একটি চিঠি হটসঅ্যাপের মাধ্যমে আসে। জিএম( প্রশাসন) বরাবরে লেখা চিঠিতে ওসি লিখেছেন আসন্ন দুর্গাপূজা অসাম্প্রদায়িকভাবে ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা করতে চান তিনি। এ সভার অতিথিদের আপ্যায়ন করতে ৩০০ প্লেট কাচ্চি বিরিয়ানি, ৩০ কেজি জিলাপি, ৩০ কেজি মিষ্টি, ৩০০ প্যাকেট দই ও ৫০০ বোতল পানি প্রয়োজন। এ বাবদ এক লাখ টাকার মালামাল সরবরাহের জন্য বলেন ওসি।

চিঠিতে আরও লেখা হয়, ২৮ অক্টোবর সারা দেশে কমিউনিটি পুলিশিং ডে। এ উপলক্ষে তারা শায়েস্তাগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে এক সুধী সমাবেশ করা হবে । এ সমাবেশের জন্য আরও ৫০০ প্যাকেট কাচ্চি বিরিয়ানি এবং মিষ্টি ও দইয়ের আয়োজন করা হবে। এ সঙ্গে অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুন, মাইকিং, ফিল্ড ক্যাপসহ বিভিন্ন সামগ্রী দরকার। এ জন্য তাদের আরও আড়াই লাখ টাকার মালামাল দরকার। এ দুই অনুষ্ঠানের মোট খরচ সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল চেয়ে ওসির স্বাক্ষরিত চিঠিটি হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়।

যোগাযোগ করা হলে ওসি বলেন তিনি এধরণের কোন চিঠি তিনি দেননি। তার সাক্ষর সুপার এডিট করে পাঠানো হয়েছে।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম মুরাদ আলি জানান, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। ওসি এ ধরনের চিঠি কেন দিলেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না। এ ধরনের চিঠি দেওয়া অন্যায়। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। প্রান গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার জানান পিআরও শুক্রবার অবহিত করেছেন।