শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জয়ের মুখ দেখল অজিরা

বিশ্বকাপ শুরুর এগারো দিন ও দুই পরাজয়ের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া। লখনৌর একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারায় ক্যাঙ্গারুরা। লঙ্কানদের দেয়া ২১০ রানের লক্ষ্যে ৮৮ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় অজিরা।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে দেখলেই বিশ্বকাপে সবচেয়ে সুখের স্মৃতি মনে পড়ে যাবার কথা লঙ্কানদের। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্যাঙ্গারুদের হারিয়েই যে বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতেছিল এশিয়ার সিংহরা। এদিন ম্যাচের আগে অজি শিবিরেও ছেয়ে ছিল দুঃশ্চিন্তার কালো মেঘ। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে নেই রানের দেখা। বোলিংটাও হচ্ছে না মনের মতো। বিশ্বকাপে এখনো জয় বঞ্চিত দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমনসব চিন্তা মাথায় নিয়েই মাঠে নামে পরস্পরের বিপক্ষে।

লখনৌতে শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস গতকাল টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তার সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করেন নিশাঙ্কা-পেরেরার উদ্বোধনী জুটি। ১২৫ রানের জুটি গড়ার পথে ফিফটি তুলে নেন দুজনেই। ৮ চারে ৬৭ বলে ৬১ রান করেন পাথুম নিশাঙ্কা। আর কুশল পেরেরার ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৭৮ রান। তিনি বাউন্ডারি মারেন ১২টি।

এই দুজনকেই ফেরান অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথমে ফেরেন নিশাঙ্কা। তার কিছুসময় পরেই দলীয় ১৫৭ রানে ফিরে যান পেরেরা। এরপর দৃশ্যপটে উপস্থিত হন অ্যাডাম জাম্পা। জোড়া আঘাতে ফেরান লঙ্কানদের হয়ে তুমুল ফর্মে থাকা কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমাকে। ৯ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ঘাম ছোটা অবস্থায় যখন লঙ্কানরা তখনই লখনৌর আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। নেমে আসে বৃষ্টি।

বেরসিক বৃষ্টির বাধায় কিছুক্ষণ থেমে ছিল অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার খেলা। অপেক্ষা শেষে খেলা মাঠে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণভাগে হাজির হন মিচেল স্টার্ক। দ্বিতীয় বলেই ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে বোল্ড করেন তিনি। তার কিছু সময় না যেতেই কামিন্সের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে যান দুনিথ ভেল্লালাগে।

এরপর বোলিংয়ে ফিরে আবার জোড়া আঘাত হানেন জাম্পা। ফিরিয়ে দেন চামিকা করুণারত্নে ও মাহিশা থিকশানাকে। পরের দুটি উইকেট নিজেদের করে নেন স্টার্ক ও ম্যাক্সওয়েল। দারুণ শুরু করা শ্রীলঙ্কা ৪৩.৩ ওভারে মাত্র ২০৯ রানেই গুটিয়ে যায়। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক ২টি করে উইকেট নেন।

এদিন ম্যাচসেরা অ্যাডাম জাম্পার স্পিন ভেল্কিতে কুপোকাত হন লঙ্কান ব্যাটাররা। তাদের ইনিংস থামে ২০৯ রানে। উদ্বোধনী জুটিতে চমৎকার জুটির পর মাত্র ৫২ রানেই শেষ ৯ উইকেট হারিয়ে বসে এশিয়ার সিংহরা। জাম্পা একাই শিকার করেন ৪ উইকেট। এ নিয়ে দশমবারের মতো ইনিংসে ৪ উইকেট শিকার করলেন এই লেগী। অজি স্পিনারদের মধ্যে এর বেশি ১৩ বার চার উইকেট শিকারের কীর্তি আছে শুধু শেন ওয়ার্নের।

বিশ্বকাপে দুশোর গণ্ডি ছুঁতে না পারা অজিদের ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে ২১০ রানের লক্ষ্যটাকে খুব একটা সহজ মনে হচ্ছিল না। আরেক পশলা বৃষ্টি শেষে তবুও ভালো শুরু করেন দুই ওপেনার। এরপর লঙ্কান পেসার দিলশান মাদুশঙ্কার জোড়া আঘাতে কাঁপন ধরেছে অস্ট্রেলিয়া ড্রেসিংরুমে। স্কোরবোর্ডে ২৪ রান তুলতেই ফিরে যান দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। ডাবল উইকেট মেইডেন ওভার করার পথে প্রথম ও শেষ বলে এ দুজনকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মাদুশঙ্কা।

এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তার কারণ তাদের ব্যাটিং। তারপরও শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২১০ রানের লক্ষ্যটিকে সহজ মনে হচ্ছিল। সেটাকেই কঠিন বানিয়ে ফেললেন অজি টপ অর্ডার। ওয়ার্নার ৬ বলে ১১ রান করলেও স্মিথ ফেরেন রানের খাতা না খুলেই।

২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিরোধ গড়েছেন মিচেল মার্শ। নিজে ফিফটি করার পাশাপাশি লাবুশেনকে নিয়ে গড়েন ৫০ রানের জুটি।১২তম ওভারে ভেল্লালেগের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৩৯ বলে ৫০ ছোঁন মার্শ। বিশ্বকাপে এটিই প্রথম ফিফটি মার্শের।

দলীয় ৮১ রানে দুর্ভাগ্যজনক রান আউট হয়ে মিচেল মার্শ ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন অজি উইকেটটকিপার ব্যাটার জশ ইংলিস। নেমেই বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন। একপাশ ধরে রাখা লাবুশেনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে নিলেন এই ব্যাটসম্যান। লাহিরু কুমারার বলে দৃষ্টিনন্দন চার মেরে ৪৬ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি।

অজি ইনিংসটি ধরে রেখেছিলেন লাবুশেন। ৭৭ রানের জুটি গড়েন ইংলিসের সঙ্গে। ৪০ রান করে তিনি আউট হলে বাকি কাজটুকু সারেন ম্যাক্সওয়েল। ৩১ রানে অপরাজিত থেকে ৫ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। মাদুশঙ্কা ৩টি আর ভেল্লালাগে ১টি উইকেট নেন শ্রীলঙ্কার হয়ে।