হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। এ ভাইরাসের দীর্ঘকালীন উপস্থিতি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। লিভার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণও হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ইনফেকশন। বিশ^ব্যাপী প্রায় ৩৮ কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত।
ঝুঁকি কাদের বেশি
হেপাটাইটিস-বি আক্রান্ত মায়ের সন্তান, হেপাটাইটিস আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকারী, বহুগামী পুরুষ বা নারী, সমকামী, যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, ডায়ালাইসিস নিতে হয় এমন রোগী, বি ভাইরাস ছাড়া অন্য কারণে ক্রনিক হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগী, ডায়াবেটিস ও এইডস রোগী হেপাটাইটিস-বি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসক বিশেষত শল্য চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মাঝে অবস্থান করছে।
হেপাটাইটিস-বি টিকা : জন্মের পর পরই প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রথম টিকা দেওয়া যায়। ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত যে কোনো বয়সী পুরুষ-নারীদের টিকা দিতে হবে। ১৯-৫৯ বয়সের নর-নারী কিংবা ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি যারা ঝুঁকির মাঝে আছেন তাদেরও টিকা নিতে হবে। ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি যারা ঝুঁকির মাঝে নেই তাদেরও টিকা দিতে হবে। হেপাটাইটিস-বি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। টিকা প্রদানের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা যায়। এই টিকা নিরাপদ এবং কার্যকরী। তিনটি ডোজে টিকা সম্পন্ন করতে হয়। প্রথম টিকা দেওয়ার এক মাস এবং ছয় মাসের মাথায় আরও দুটি টিকা দিলে পূর্ণাঙ্গ ডোজ সম্পন্ন হয়। এযাবৎকাল আবিষ্কৃত সব টিকার মাঝে এটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এবং কার্যকরী। ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য অন্যতম প্রধান টিকা হচ্ছে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা। এক বা একাধিক ডোজ নেওয়ার পর ভুলে গেলে নতুন করে আবার তিন ডোজ শুরু করার প্রয়োজন নেই। একটি ডোজ নেওয়ার পরে ভুলে গেলে দ্বিতীয় ডোজ মনে পড়ার পর নিয়ে নিতে হবে। এরপর দুই মাসের মাথায় তৃতীয় ডোজ শেষ করতে হবে। দুটি ডোজ নেওয়ার পরে ভুলে গেলে তৃতীয় ডোজ মনে পড়া মাত্র নিতে হবে।
বুস্টার ডোজ : এই টিকার ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ সাধারণত প্রয়োজন হয় না। তবে স্বাস্থ্যকর্মী, ল্যাবরেটরি কর্মীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া প্রয়োজন পড়ে। বুস্টার ডোজ দিতে হবে টিকা সম্পন্ন হওয়ার পাঁচ বছর পর।