নেতার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছাত্রলীগনেত্রী, বললেন ‘এআই’ দিয়ে করা

ফেনীর আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসার দুই ছাত্রলীগ নেতা-নেত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ঘটনার পর তাদের মাদ্রাসা শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া সুলতানা রাত্রির আপত্তিকর ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর তোলপাড় চলছে।

আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা ছাত্রলীগ নেতা আবদুল আজিজ ফিরোজ, আলিম শ্রেণির ফলপ্রার্থী ও জান্নাতুল ফেরদৌস নাদিয়া, দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফিরোজ ফালাহিয়া ছাত্রলীগের পাশাপাশি পৌর ছাত্রলীগেরও পরিবেশ-বিষয়ক সম্পাদক। গত কদিন ধরে ফিরোজ ও নাদিয়ার বেশ কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ফালাহিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয়ধারী তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী অপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফিরোজ-নাদিয়াকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফেনী পৌর শাখার আওতাধীন ফেনী আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা ছাত্রলীগের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতি আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় জান্নাতুল ফেরদৌস নাদিয়া এবং আবদুল আজিজ ফিরোজ ফালাহিয়া ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।’

এ ব্যাপারে আবদুল আজিজ ফিরোজের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুর করিম জাবেদ জানান, ফালাহিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। ফালাহিয়া মাদ্রাসায় সভাপতির পরিচয় দেওয়া অপু জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে রয়েছে। ওই মাদ্রাসায় কমিটি পুনর্গঠনে তাদের চিন্তা রয়েছে। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তোফায়েল আহমেদ তপু জানান, ফালাহিয়া মাদ্রাসায় বহিষ্কারের ঘটনা সংগঠনবহির্ভূত। ফেনীতে ছাত্রলীগ থেকে কাউকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তাদের নেই।

ফালাহিয়া মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী অপু জানান, মাদ্রাসায় ফিরোজ-নাদিয়া উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা এবং শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করেন। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তাতেও সংশোধন না হওয়ায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া সুলতানা রাত্রির আপত্তিকর ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক আবু সুফিয়ানের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় অন্তরঙ্গ মুহূর্তে রাত্রি। ছবিতে বিবস্ত্র হয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে ভিডিওকলে কথোপকথন। আরেকটি ছবিতে অপর ব্যক্তির সাথে আয়েশি ভঙ্গিতে সিগারেট টানার দৃশ্য।

ভাইরাল হওয়া এসব ছবি প্রসঙ্গে রাত্রি দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহারে কিছু কিছু সময় মানুষকে ভয়ংকর হয়রানির স্বীকার হতে হয়, যা ইতিমধ্যেই অনেকের সাথে হয়ে আসছে। আমার সাথেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর মাধ্যমে কাজটি নিখুঁতভাবে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। কলেজ কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার সময় থেকেই একটি কুচক্রী মহল আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছে। আমি এ ব্যাপারে দুই মাস আগে জিডি করেছি। ছবি ভাইরালের ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

সাদিয়া সুলতানা রাত্রি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচত হয়। চলতি বছরের ২৭ জুলাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় না থেকেও ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হঠাৎ সহসভাপতি হন সাদিয়া রাত্রি। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচত হওয়াকে অনেকে 'আলাউদ্দিনের প্রদীপ পাওয়া' মনে করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি প্রসঙ্গে অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেন। জাহিন কণক নামের একজন লিখেছেন, লজ্জা-শরম উঠে গেলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দোহাই দেওয়া স্বাভাবিক। এ দেশের সবাইরে পাগল ভাবাও স্বাভাবিক। শুনলাম সানি লিওনও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে।

আবদুল্লা আল মামুন লিখেছেন, নেতার ছবিও কি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তৈরি করা। ফেনী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান লিখেছেন, ফেনী সরকারি কলেজকে দূষণমুক্ত করুন। রাত্রি এখন দিনের আলোয় আলোকিত। মোহাম্মদ জিয়াউল হক নামে একজন লিখেছেন, ভাইরে ভাই ফেনী কলেজে এইটা কি হইল। ৩ মাসে সহসভাপতি, ৬ মাসে সাধারণ সম্পাদক, ৯ মাসে খুশির খবর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজ শাখার এক ছাত্রলীগকর্মী বলেন, তার বিরুদ্ধে ছাত্র রাজনীতির সাইনবোর্ড গলায় ঝুলিয়ে কলগার্ল হিসেবে নানা লোকের বাসায় গিয়ে দেহ ব্যবসার মতো কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, শতাধিক বয়ফেন্ড ও শহরের টাকাওয়ালাদের টার্গেট করে ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে প্রেমঘটিত ঘটনায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে রাত্রি। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হন। এ ঘটনার পর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও নিষ্ক্রীয় হয়ে পড়েন।

আবু সুফিয়ানের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি প্রসঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহীদ উল্লাহ খন্দকার বলেন, আবু সুফিয়ান এখন ফেনী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় নয়।