প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ছোট রেণুর কাস্টিং ভালো হয়েছে

জনপ্রিয় শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা হওয়ার পর এই প্রথম কাক্সিক্ষত সাফল্যের দেখা পেলেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ সিনেমাটিতে বঙ্গমাতার চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন দীঘি। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি করার অনুভূতি এই মুহূর্তে কেমন?

আমি বঙ্গমাতার কিশোরী বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রের ব্যাপ্তি খুব বেশি নয়। তারপরও যে পরিমাণ মানুষের ভালোবাসা, প্রশংসা পাচ্ছি, সেটি এক কথায় অসাধারণ। আপনার সঙ্গে কথা বলার আগেই এক বন্ধু ছবিটি দেখে আমাকে ফোন করে বলল, ‘তোর যতটুকুই উপস্থিতি ছিল না কেন, ছবিটি ইমপ্যাক্ট রেখেছে।’ আমার কাছের মানুষরা ছবিটি দেখে বলেছেন, আমাকে এই ছবিতে যতবারই দেখেছেন তারা গর্ব অনুভব করেছেন। এ-ও বলেছেন, আমি আর অভিনয় না করলেও তাদের আফসোস নেই! একে তো জাতির পিতার বায়োপিক, তার ওপর শ্যাম বেনেগালের সিনেমা। সেখানে আমাকে দেখতে পেয়েই তারা খুব খুশি। আমি নিজেও আপ্লুত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের মা-বাবার ওপর নির্মিত সিনেমাটি দেখেছেন আপনাদের সঙ্গে নিয়ে। এরপর আপনাকে কিছু বলেছেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিনেমাটি দেখার পর শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আমি অত লোকের ভিড়ে একটু পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। একটা পর্যায়ে ওনাকে সালাম দিয়ে বলি, আমি আপনার মায়ের কিশোরী বেলার চরিত্রটি করেছি। কারণ, ছবিতে কোনো মেকআপ ছাড়াই কাজ করেছি। আর সেদিন তো বেশ ভারী মেঅকাপ করা ছিলাম। তা ছাড়া আগের চেয়ে আমি অনেকটাই ওজন ঝরিয়েছি। তাই বোঝার সুবিধার্থে আমার চরিত্রটির নাম ধরেই ওনাকে বলি। কথাটা শুনে উনি একটু হাসি দিয়ে বললেন, আমি জানি তুমি ছোট রেণুর চরিত্রটি করেছ। আমি তো চিনেছি তোমাকে। এই কাস্টিংটি খুব ভালো হয়েছে। কারণ ছোট রেণু এমন মিষ্টিই ছিল। এর আগে শেখ রেহানার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনিও আমাকে একই কথা বলেছিলেন। নিজের মায়ের চরিত্রে তারা দুজন যে আমাকে এত সুন্দর করে গ্রহণ করেছেন, এটাই এই ছবি থেকে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কারণ, আমরা নিজের বেলায় উদাসীন হলেও বাবা-মায়ের বেলায় কিন্তু ভীষণ খুঁতখুঁতে। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করতে পেরেছি, এটাতেই আমি তুষ্ট। 

আপনার মা দোয়েল এ দেশের প্রখ্যাত চিত্রতারকা ছিলেন। তার যদি কখনো বায়োপিক হয়, কোন অভিনেত্রীকে সবচেয়ে পারফেক্ট মনে করবেন?

চোখ বন্ধ করে বলা যায়, জয়া আহসান। আমি নিজেকে পারফেক্ট মনে করছি না। কারণ আমি আমার মায়ের মতো অত লম্বা নই। তিনি ভীষণ সুন্দরী ছিলেন, জয়া আহসান ম্যাডামও তেমন। দুজনকেই শাড়ি পরলে খুব সুন্দর লাগে। এসব কারণেই আমি জয়া আহসানকে বেছে নিতে চাই।

দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর সঙ্গে আপনার বাগবিত-ার কথা সবাই জানেন। তা সত্ত্বেও তিনি ছবিটি দেখে প্রশংসা করেছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

আসলে যত যা-ই হোক, কেউ যদি ভালো কাজ করেন তার প্রশংসা তিনি মুন খুলে করতে পারেন। এটা আমি আগেও দেখেছি। ছবিটিতে তো আমি অল্প সময়ের জন্য কাজ করেছি। তারপরও যে তিনি মনে করে আমার প্রশংসা করেছেন, এটিই অনেক বড় কথা। কারণ তিনি তো আমাদের দেশের অনেক বড়মাপের একজন নির্মাতা, সে কথা তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

শিশুশিল্পী হিসেবে দুর্দান্ত ক্যারিয়ার আপনার। বড় হয়ে ক্যারিয়ারে ছন্দটা যেন আসছিল না। এই ছবির সাফল্য কি দীঘির প্রকৃত প্রত্যাবর্তন?

আসলে ওই সময় আর এখনকার ইন্ডাস্ট্রির অনেক তফাত। তখন বেশিরভাগ সিনেমা হিট হতো। কারণ গল্প, বাজেট, তারকাবহুল কাস্টিং, পরিচালনা সব মিলিয়ে দর্শক খুব পছন্দ করত ছবিগুলো। এখন সেগুলো খুব একটা হয় না। তবে মুজিব ছবিটির মধ্যে সেই বিষয়গুলো আছে। এ জন্যই ছবিটি সবাই পছন্দ করছে। তাই আমারও মনে হচ্ছে অনেক দিন পর সেই হারানো আমেজ পাচ্ছি।

ছবিটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। আপনার চোখে এই কাস্টিংটি কি পারফেক্ট?

সহশিল্পী বা দর্শক, যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি বলতে পারি ‘হি ইজ পারফেক্ট ফর দ্য রোল’। বাংলাদেশে আর কোনো অভিনেতাকে দেখি না যে শুভর চেয়ে ভালো করতে পারত। কেউ যদি মনে করে থাকে উনি পারফেক্ট না, তাহলে বলিউড বা অন্য ইন্ডাস্ট্রি থেকে কাউকে আনতে হবে। যেভাবে তিনটি বছর ধরে উনি চরিত্রটিকে ধারণ করেছেন, সেটি উনি ছাড়া বাংলাদেশে আর কেউ পারত না।