কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন আহসান উল্ল্যাহ নামের এক ব্যক্তি। পৈত্রিক সূত্রে মালিকানা দাবি করে ওই স্থান দখল করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন ইউছুফ নামের আরেক ব্যক্তি। সওজের জায়গা নিয়ে এভাবে চলছে দু’পক্ষের টানাটানি।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুজকরা গ্রামে।
জানা গেছে, ১৯৮২ সালের দিকে ওই জায়গা সরকার সওজের নামে একোয়ার করে নেয়। সম্প্রতি কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরে সড়কের দুপাশে খালি জায়গায়গুলো পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা দখল করেন। কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে দখল করেছেন ওই জায়গা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে নাঙ্গলকোট উপজেলা অংশে পুজকরা গ্রামের জেঠার দোকানের উত্তর পাশে মহাসড়কের পাশে চার কক্ষের একটি সেমি পাঁকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন ওই গ্রামের আহসান উল্ল্যাহ। এদিকে পৈত্রিক সূত্রে মালিকানা দাবি করে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেন ইউসুফ ও তার সমর্থকরা। সালিশ বৈঠকে পক্ষে রায় পান ইউসুফ। পরে শতাধিক লোকজন নিয়ে ওই সেমি পাঁকা স্থাপনায় টিনের চালা স্থাপন করে দরজা জানালা বন্ধ করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দখলে নেন ইউসুফ।
সাইনবোর্ডে তিনি লিখেছেন, ‘মরহুম আলতাফ আলী ওয়ারিশ সূত্রে মালিক ইউসুফ। ২৮২ দাগে ২ ডিং জায়গা পাওনা ছিলাম। এই ২ ডিং জায়গা নাঙ্গলকোটের আমিনে মেপে দেওয়ার পরে আমার নিজ ইচ্ছায় আমি বুঝিয়া পাইলাম। দক্ষিণ পার্শ্বে আমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার পরে আমার জায়গা আমিনে চিহ্নিত করে দেওয়ার পর স্ব-ইচ্ছায় সাইন বোর্ড ঝুলাইলাম।’
এ বিষয়ে আহসান উল্ল্যাহ বলেন, ‘ইউসুফের ভাইয়ের কাছ থেকে এ জায়গা আমি ক্রয় করি। ক্রয় সূত্রে এ জায়গার মালিক আমি। এটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। গত রবিবার ভোর রাতে ইউসুফ শতাধিক লোকজন নিয়ে আমার দোকান ঘরটি দখলে নেয়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউছুফ বলেন, ‘আহসান উল্ল্যাহ তার ভাইয়ের কাছ থেকে ২৮৩ দাগ থেকে জায়গা ক্রয় করে। পরে সে ২৮২ দাগে আমার জায়গা দখল করে বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করে। এ নিয়ে থানায় সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে রায় আমার পক্ষে আসে। তাই আমার জায়গা আমি দখলে নিয়ে যাই।’
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারি জায়গা কারোরই দখল করার সুযোগ নেই। কেউ যদি দখল করে থাকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সওজের জায়গা নিয়ে কারোই টানাটানির সুযোগ নেই। খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।