উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য প্রায় দুই বছর বন্ধ রাখার পর গত মাসে দর্শনার্থীদের জন্য খুলেছে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় বিনোদনকেন্দ্র শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। কিন্তু সেখানে ঢুকে হতাশ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। তারা বলছেন, অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও নেই পশুপাখি। এ যেন প্রাণহীন এক উদ্যান। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও পরিবার নিয়ে এসে দেখার কিছু নেই সেখানে।
পশুপাখি না থাকার কথা স্বীকার করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ বলছে, এই পার্কের চিড়িয়াখানা অংশটি আর নেই। এটি এখন শুধুই উদ্যান। আর সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি। আরও উন্নয়ন হবে সেখানে। এসব কাজ শেষ হলে তখন দর্শনার্থীদের ঘুরতে ভালো লাগবে।
নগরবাসীর বিনোদনের চাহিদা মেটাতে ১৯৭২ সালে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৩৩ একর জমিতে নির্মিত উদ্যানটি ১৯৯৬ সাল থেকে পরিচালনা করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। এটিই এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিনোদনকেন্দ্র। শুধু রাজশাহীই নয়, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই উদ্যানে ঘুরতে আসতেন। সেখানকার চিড়িয়াখানায় একসময় বাঘ, সিংহ, উট, ভালুক, গাধা, হায়েনা, অজগর, ময়ূরসহসহ বিচিত্র পশুপাখি ছিল। বহু ধরনের পাখির কিচিরমিচির শব্দ মুখর করে রাখত খাঁচা ও আশপাশের এলাকা। অনেক শিশু দর্শনার্থী এখানে এসে এসব জীবজন্তু সম্পর্কে ধারণা পেত। অসংখ্য বানর, হনুমানের সঙ্গে দর্শনার্থীদের খেলা আর হইচইÑ এই সরগরম হয়ে থাকত চিড়িয়াখানা। কিন্তু এখন নেই কোনো পশুপাখিই। একপাশে শুধু রয়েছে কিছু হরিণ।
চিড়িয়াখানার ‘আধুনিকায়নে’ ভেতরে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়। নির্মাণ করা হয়েছে ‘অরণ্য রিসোর্ট’। এতে সাতটি পরিবার থাকতে পারবে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হয়েছে পার্কের ভেতরে প্রধান ফটকের পাশে।
কিন্তু যেসব দর্শক ঘুরতে আসছেন তারা হতাশা প্রকাশ করছেন। পুঠিয়া থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা জামাল আহমেদ বলেন, ‘এর আগে এসে বাচ্চাদের পশুপাখি দেখিয়ে আনন্দ দিয়েছিলাম। অনেক দিন বন্ধ ছিল এটি। খুলেছে শুনে এলাম যে এখন হয়তো আরও অনেক কিছু দেখতে পাব। কিন্তু কিছুই নেই। রাস্তাগুলো সুন্দর হয়েছে। পার্কের ভেতরে সুন্দর সুন্দর রাস্তা হয়েছে। গেটগুলো সুন্দর করা হয়েছে। কিন্তু বাচ্চারা কী দেখবে এখানে? তাদের দেখার মতো কিছুই দেখি না। কিছু খেলনা দেখছি, কিন্তু সেগুলো এখনো চালু হয়নি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম বলেন, ‘এটি কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা ছিল। এই উদ্যান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে চিড়িয়াখানা। এখন এটি শুধুই উদ্যান। অনেক কাজ এখনো বাকি। প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করে উদ্যানের উন্নয়ন করা হবে। এখন পর্যন্ত ছয় কোটি টাকার মতো কাজ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলে এটির চেহারা বদলে যাবে। বাচ্চাদের জন্য আলাদা কর্নার করা হবে এখানে। সেখানে তাদের জন্য অনেক খেলার আইটেম থাকবে।’