বরিশালে ৫ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা

স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানসহ পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য উত্তম কুমার দাস।

আদালতের বিচারক সুমাইয়া রিজভী মৌরি মামলাটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) প্রেরণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান।

মামলার বিবাদীরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সহসভাপতি মোস্তফা সরদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হুদা, মামুনুর রশিদ স্বপন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। বিবাদীরা সকলেই স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহে আলমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

মামলার বাদী উত্তম কুমার দাস পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

মামলার বরাত দিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যনির্বাহীর সভা করে এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহে আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। বিবাদীরা নিজেরা কিংবা অপরকে লাভবান করার জন্য এবং বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকলাপকে ক্ষতিগ্রস্ত ও হেয় প্রতিপন্ন করতে তারসহ (মামলার বাদী) কমিটির ৬ জনের স্বাক্ষর জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অপরাধ করেছে।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ‘এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ভুয়া সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ’ বিজ্ঞপ্তিতে তিনিসহ (বাদী) ৬ জন (যাদের নালিশে সাক্ষী করা হয়েছে) স্বাক্ষর দেননি। অথচ সেখানে তাদের স্বাক্ষর রয়েছে।

মামলার পাঁচ সাক্ষী হলেন বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম শান্ত, সদস্য সেলিম সরদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খাঁ ও মিজানুর রহমান মিঠু।

মামলার আইনজীবী মামুন অর রশীদ জানান, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির কিছু সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে একটা প্রতিবাদ গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে নালিশি অভিযোগ দেওয়া হয়। বিচারক অভিযোগ তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১৬ অক্টোবর) বরিশাল বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বরিশাল-২ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহে আলমের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ।

গত ৩ অক্টোবর বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা স্বাক্ষরিত নোটিশে শাহে আলমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি ১৭ অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। কিন্তু একজন সংসদ সদস্যকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে- বিষয়টি নানা মহলে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, তারা কোনো এমপিকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেনি বরং কমিটির একজন সদস্যকে এই নোটিশ প্রদান করেছেন। যা সাংগঠনিক বিধি-বিধান মেনেই করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই নোটিশ সংবাদ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রকাশের একদিন পরেই উল্টো বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ।