আফ্রিদির ৫ উইকেটের পরও অস্ট্রেলিয়ার ৩৬৭

ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের বিধ্বংসী দুই সেঞ্চুরির পরও দলীয় সংগ্রহটা খুব বেশি বড় করতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। শাহিন শাহ আফ্রিদির ৫ উইকেট শিকারের দিনে পুরো ওভার ব্যাটিং করে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করেছে ৩৬৭ রান।

প্রথম দুই ম্যাচে নিদারুণ হার। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জয়ের পথে ফেরা। এবার পাকিস্তানের বোলারদের কড়া শাসনে রেখে উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড করে বসেছেন ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ। তাদের ২৫৯ রানের জুটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ডটি উপুল থারাঙ্গা ও তিলকারত্নে দিলশানের। ২০১১ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৮২ রানের জুটি গড়েন তারা।

ওয়ার্নার-মার্শের ২৫৯ রানের জুটি হয়তো হতোই না। যদি ৫ম ওভারে ওয়ার্নারের ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারতেন উসামা মির। ক্যাচ মিসের আক্ষেপ বাড়িয়ে দিয়ে এই দুই ব্যাটসম্যানই তুলে নেন সেঞ্চুরি। রান খরায় থাকা অজি টপ অর্ডারের সকল দুঃশ্চিন্তা নিরসন করেন ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ।

৩১তম ওভারে ৮৫ বল খেলে বিশ্বকাপে নিজের ৫ম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ওয়ার্নার। আর এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চতুর্থ সেঞ্চুরি ওয়ার্নারের। পরের বলে নিজেকে জন্মদিনের উপহার দেন মিচেল মার্শ। তবে সেটা লিটন দাসের মতো ডাক মেরে নয়। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি উদযাপন করে। ওয়ানডেতে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

এই সেঞ্চুরির সুবাদে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে ছুঁলেন ওয়ার্নার। দুজনেরই ৫টি করে সেঞ্চুরি। ৭টি সেঞ্চুরি নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে আছেন রোহিত শর্মা।

৩৪তম ওভারে দৃশ্যপটে হাজির হন শাহিনশাহ আফ্রিদি। পর পর দুই বলে জোড়া আঘাত হেনে ফেরান মার্শ ও গ্লেন ম্যাক্ওয়েলকে। ম্যাক্সওয়েল স্কোরারদের বিরক্ত করেননি। আর মার্শ ফেরার আগে ১০৮ বলে ১২১ রান করেন। ১০টি চার ও ৯টি ছক্কা মারেন তিনি।

স্মিথও ফেরেন দ্রুত মাত্র ৭ রান করে। ৪র্থ উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়ার পথে দেড়শ রান পূর্ণ করেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার দাপুটে ইনিংসটি থামে হারিস রউফের বলে ১৬৩ রান করে। ১২৪ বলে ১৪টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো ছিল ইনিংসটি।

এরপরই আসা-যাওয়ার স্রোতে ভাসে অজিরা। শেষ ৪৬ বলে ৪২ রান তুলতেই হারায় ৬ উইকেট। ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ৩৬৭ রান জড়ো হয় স্কোরবোর্ডে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগহের রেকর্ড। আগেরটি ছিল শ্রীলঙ্কার, ৯ উইকেটে ৩৪৪ রানের।

শাহিনশাহ আফ্রিদি বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারে তৃতীয় ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন। ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের কীর্তিটি গড়েছিলেন তিনি। হারিস রউফ নেন ৩টি উইকেট।

বিশ্বকাপ অভিষেকে সবচেয়ে বেশি রান দেয়ার কীর্তি গড়েন উসামা মির। ৯ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১ উইকেট শিকার করতে ৮২ রান হজম করেন তিনি।