জবি দিবসে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, ছাত্র গ্রেপ্তার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের দিন এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলায় মেহেদী হাসান ওরফে সৈকত নামে এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার রাতে মেহেদীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরের সামনে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে দর্শন বিভাগের ছাত্র সৈকত। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীকে আটক করে থানা পুলিশে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, ‘এই ছেলেটি অনেক দিন ধরে আমাকে ডিস্টার্ব করছিল। ফেসবুক মেসেঞ্জারে বাজে বাজে অকথ্য ভাষায় মেসেজ দিত। বিষয়টি তিনি ক্যাম্পাসের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জানান। তারা মেহেদীকে একাধিকবার সতর্ক করেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের জন্য ক্যাম্পাসে আসি। একপর্যায়ে প্রকাশ্যে যৌন হয়রানি করেন মেহেদী। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। আমি ভয় পেয়ে আমার পাশে থাকা ব্যাচমেট বন্ধু বিলাস দাসকে জানালে তাকেও মারধর করে সৈকত।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রী তার কার্যালয়ে অভিযোগ দিলে আমরা মেহেদীকে আটক করে পুলিশে দিই। ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর ছাত্রীর করা মামলার বিষয়টি দেখবে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি শাহিনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গতকাল পুলিশকে খবর দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেহেদীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী গতকাল রাতে মেহেদীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।