‘রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিদেশি বিনিয়োগে কোনো সমস্যা হবে না’

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় জানিয়েছেন, আসন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কোনো সমস্যা হবে না। রাজনীতি যেভাবেই চলুক আমরা আমাদের ব্যবসা আমাদের মতো করে যাব। তাছাড়া যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশ ছেড়ে চলে গেছে তারা বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গেছে।

শনিবার (২১ অক্টোবর) সংগঠনটির ৬০ বছর পূর্তিতে আগামী ৮ থেকে ৯ নভেম্বর বিনিয়োগ মেলার আয়োজন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ৮-৯ নভেম্বর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন-এ ৬০তম বর্ষপূর্তি এবং বিনিয়োগ মেলা ২০২০ এর আয়োজন করেছে সংগঠনটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। শনিবার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফ্ল্যাগশিপ মেগা ইভেন্টের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই আয়োজন সম্পর্কে চেম্বারের সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এফআইসিসিআই-এর ভূমিকা তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সেই সাথে দেশের বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে আমাদের সদস্যদের অবদান তুলে ধরা।

ইভেন্টের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)।

এক প্রশ্নের জবাবে বিডার চেয়ারম্যান মহসিনা ইয়াসমিন বলেন, গত বছর সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এ বছর দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার এসেছে। বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশ ফিকির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য।

যে পরিমাণ বিনিয়োগ পাওয়ার আশা ছিলো তা কি এসেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বিডা শুরু। এরপরই করোনা শুরু। পজিটিভ ট্রেন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২২ সালে ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন হয়েছিল এফডিআই। এরপরে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এ বছর মিলিয়নের ঘরে আছে। আর কোন সমস্যা না হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবো। চেষ্টা করলে দেশে সবকিছুতে সফল হওয়া যায় না। তবুও চেষ্টা করছি।

একই প্রশ্নের জবাবে নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ইন্টারেস্ট আছে এ বিষয়ে। তবে সময় লাগে আলোচনায়। বৈশ্বিক পরিবেশটা বৈরি অবস্থায় আছে। এ কারণে সমস্যা হচ্ছে। সবাই অনিশ্চয়তায়। স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো ওভারকাম করতে হবে। কর ব্যবস্থাপনা একটা বিপজ্জনক বিষয়। অন্য দেশের তুলনায় ট্যাক্সকে তুলনা করতে হবে। ২০৪১ এর জন্য যা যা সংস্কার দরকার তা করতে হবে। বাকিটা আমাদের ইভেন্টে প্রকাশ পাবে।

নাসের বলেন, একটা বিষয় স্বীকার করতে হবে তা হলো এক রাতেই সব চেঞ্জ হবে না। অন্যান্য সব সার্ভিসের কারণেও সময় লাগে। সবগুলো পার্টিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ২০ বছরে দেশ অনেক ভালো করেছে অর্থনীতিতে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মোহসিনা ইয়াসমিন বলেন, এ বছর ৭০০ মিলিয়ন এসেছে এফডিআই। অনেক কিছু হয়নি আবার অনেক কিছু হয়েছে। আমরা এ মুহূর্তে প্রতিযোগি দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছি। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক কাজ করতে হবে। ৩৫টি অফিসের সার্ভিসকে একসঙ্গে নিয়ে আসার কাজ চলছে। এখন ৩০টি কার্যালয়ের কাজ এক বিডাতেই হচ্ছে।

সবাই বিভিন্ন অফিসে গিয়ে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো আমাদের অফিসে সেবা না নিয়ে সবগুলো অফিসেই যাচ্ছে। তা দুঃখজনক। আমরা বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিসে ৯০টি সেবা দিচ্ছি। তারা সে সেবা নিচ্ছে না। এই সেবা নিলে ৫০% ঝামেলা কমে যাবে। ২০১৯ সালে ১ লাখের ওপরে সেবা দিয়েছি। এই সেবা ব্যবহার করলে সমস্যা কমে যাবে।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এফআইসিসিআই-এর গবেষণা প্রতিবেদন ক্যাটালাইজিং গ্রেটার এফডিআই ফর ভিশন ২০৪১; প্রায়োরিটাইস ফর বিল্ডিং কনভাসিত ট্যাক্স সিস্টেম ইন বাংলাদেশ এবং ইএসজি পাবলিকেশন ইএসজি এক্সিলেন্স এ ক্রনিকেল অব এফআইসিসিআই মেম্বারস' উন্মোচন করবেন বলে জানান নাসের এজাজ।

ইনভেস্টমেন্ট এক্সপো প্রসঙ্গে এফআইসিসিআইর পরিচালক ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মাহাবুব উর রহমান বলেন, দুই দিনব্যাপি অনুষ্ঠিতব্য বিনিয়োগ মেলা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা এ খাতভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ৪০টি স্টলে তাদের নতুন উদ্ভাবন, পরিসেবা এবং পণ্য দিয়ে এক্সপোতে অংশগ্রহণ করবে। আশা করছি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন অংশীদার, থিংক-ট্যাংকে, স্টেকহোল্ডার, দেশিয় সফল কর্পোরেট কর্মকর্তারাসহ জনসাধারণ এটি পরিদর্শন করবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা গ্রিন ভাল্যু চেইন এবং ‘ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট কারেন্ট ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড মিশন ২০৪১’ বিষয়ের ওপর দুটি প্ল্যানারি সেশনের আয়োজন করছি, যেখানে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার যাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে বিশেষজ্ঞরা তাদের মূল্যবান মতামত উপস্থাপন করবেন।

প্রতিষ্ঠান্টির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী এফআইসিসিআইর সহ-সভাপতি স্বপ্না ভৌমিক; নির্বাহী পরিচালক টি.আই.এম. নুরুল কবির সহ অন্যান্য বোর্ড অব ডিরেক্টরস এবং বিচার উদ্ধাতন কর্মকর্তাবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।