কুমিল্লা

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন!

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা মো. জুনাব আলীকে (৭৩) রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা প্রশাসনের অবহেলায় এমনটি হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এই অবহেলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার উত্তর ফালগুনকরা গ্রামের নিজ বাড়িতে শনিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে মারা যান জুনাব আলী। রাত ৯টায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি কমান্ডার আলী আশরাফের নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন মো. জুনাব আলী। ওই সময় তিনি মাটিরাঙ্গা তবলছড়ি বড়বিল এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন জুনাব আলী।

অভিযোগ উঠেছে, মৃত্যুর পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করা হয়। তবে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০২০ সালের ১১ নভেম্বর মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মুক্তিযোদ্ধা মো. জুনাব আলীর ছেলে শাহ আলম বাবু জানান, ‘বাবার মৃত্যুর পরপরই আমি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. ইয়াছিনকে অবগত করি। আধাঘণ্টা পরে তিনি আমাকে জানান, ইউএনওকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাতের বেলায় রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের বিধান নেই। এ কথা শোনার পর আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি।’

একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আবুল হাসান আরিফ বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জুনাব আলীকে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে-এ খবর জানার পর আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। লাল-সবুজের পতাকার জন্য যারা জীবন বাজি রেখেছেন, যারা স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের প্রতি এই অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম বলেন, সূর্যাস্তের পর রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের নিয়ম নেই। আমরা খবর পেয়েছি সূর্যাস্তের একটু আগে। তবে, আলোচনা সাপেক্ষে পরদিন সকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা যেত বলেও জানান তিনি।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাই রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মো. জুনাব আলীর মৃত্যুর সংবাদটি কেউ আমাকে অবগত করেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’