দ্রুত পড়ার কৌশল স্কিম রিডিং

পড়ার বিষয় আছে প্রচুর। কিন্তু সময় কম। দ্রুত পড়ার অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারলে এ সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব। দ্রুত পড়ার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে তার মধ্যে স্কিম রিডিং অন্যতম। দ্রুত পড়তে ও তথ্য গ্রহণ করতে বেছে নিতে পারো স্কিম রিডিং। এ পদ্ধতিতে অনেক অল্প সময়েই প্রয়োজনীয় তথ্য জানা সম্ভব। জানাচ্ছেন বিপুল জামান

সবচেয়ে প্রচলিত ও জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো স্কিম রিডিং, যা কমবেশি অনেকে না জেনেই করে থাকে। স্কিম রিডিং হলো বইয়ের পাতায় প্রতিটি লাইনে কেবল চোখ বুলিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বের করে বোঝার চেষ্টা করা।

এ পদ্ধতিতে বইয়ের লাইন বরাবর হাতের আঙুল বা কলম ব্যবহার করা হয়। যেন চোখ অন্য কোনো লাইনে সরে না পড়ে। নির্দিষ্ট শব্দগুলো সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এই পদ্ধতি মেটা গাইডিং নামে পরিচিত।

স্কিমিং শেখার উপায় হলো নিয়মিত অনুশীলন করা। পাঠক কোন শব্দ কত দ্রুত শনাক্ত করতে পারছে তার ওপর নির্ভর করে পড়ার গতি। যদি শব্দটি পাঠকের অনেক পরিচিত হয়, তাহলে পড়ার গতিও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে।

এই পদ্ধতিতে কোনো একটি অনুচ্ছেদের প্রথম এক বা দুটি বাক্য পড়ার পর শেষের বাক্যটি পড়তে হবে। পড়ার বিষয়ের মধ্যে ব্যাখ্যা বা যুক্তিগুলোর দিক নির্ধারণ করার চেষ্টা করতে হবে। বিস্তারিত পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

পড়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে পড়ার উদ্দেশ্য এবং এর থেকে কী কী জানা দরকার। অপরিচিত শব্দ ও নতুন তথ্য কয়েকবার পড়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

শেষ অনুচ্ছেদে সাধারণত একটি উপসংহার বা সংক্ষিপ্তসার থাকে। এটিকে স্কিম করার দরকার নেই। লেখকের সামগ্রিক উদ্দেশ্য বুঝতে এটা মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। কিন্তু অন্যান্য অংশ স্কিম করে পড়ার কারণে অনেকটা সময় যেমন বেঁচে যাবে তেমনি সহজে বিষয়ের গভীরে পৌঁছতে পারবে।

তোমার জন্য স্কিম রিডিং ভালো হবে কিনা তা দুএকবার চেষ্টা করে দেখতে পারো। যদি দেখো এই পদ্ধতিতে পড়ে সুন্দরভাবে বুঝতে পারছ তাহলে অনুশীলনের মাধ্যমে একে সম্পূর্ণ আয়ত্ত করবে। আর যদি দেখো স্কিম রিডিং পদ্ধতি তোমার জন্য প্রযোজ্য নয় তাও হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই পদ্ধতি তবু তোমার কাজে লাগতে পারে। অনেক সময় কোনো নিবন্ধে বা বইয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করতে হয় আমাদের। তখন স্কিম পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজেই সেই নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করতে পারো।