প্রতিবছর রোজা,ঈদ,পূজা ও পহেলা বৈশাখ বা বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে ফ্রি হাটের ব্যবস্থা করে আসছে ‘মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিন্মআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ফের ফ্রি হাটের আয়োজন করেছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ক্রয় সামর্থ্যহীন দুস্থ অসহায় শিশু ও নারী-পুরুষেরা পূজার ফ্রি হাটে পছন্দ সদাই ব্যাগ ভরে নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে।
হাঁটের সাতটি স্টলে থরে থরে সাজানো নিত্যপণ্য। বিক্রেতা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। ক্রেতা অসহায় মানুষ। বিনামূল্যের হাটে ব্যাগ ভর্তি সদাই নেন শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুকসহ অসহায় ৫ শতাধিক পরিবার।
গতকাল রবিবার দুপুরে ফ্রি হাটের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিউটের সহযোগী অধ্যাপক প্রফেসর প্রদীপ চন্দ্র দাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান, আঠারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম কবীর রুপকসহ সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আঠারবাড়ি মহিম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এ কর্মসূচির। সেখানে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় সনাতন ধর্মের শিশু-কিশোরসহ বয়োজ্যেষ্ঠরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে তাঁদের উপস্থিতির সংখ্যাও। ফ্রি হাট থেকে পূজোর উপহার নিতে আসা নারী-পুরুষদের আলাদা বসার জন্য দুই সারিতে চেয়ারের ব্যবস্থাও রাখা হয়। তার পাশেই ছিল বিশাল প্যান্ডেল করা সাতটি স্টল। একেক স্টলে একেক রকম পূজোর পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা।
পূজোর উপহার হিসেবে পুরুষদের জন্য ছিল- লুঙ্গি, পান্জাবী এবং নারীদের জন্য শাড়ি, চুড়ি, আলতা, সিদুর, সাবান ও শিশুদের জামা, প্যান্ট, গেঞ্জিসহ প্রতিটি পরিবারের জন্য তেল, চিনি, সেমাই, নারিকেলসহ আরও অনেক কিছু। এছাড়াও সনাতন সম্প্রদায়ের শিশুদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে তাঁদের জন্য আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সনাতন ধর্মীয় বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার।
ফ্রি হাট থেকে পূজোর উপহার নিতে আসা বাসন্তী রাণী বর্মন নামে এক নারী বলেন,' বর্তমান সময়ে জিনিসপাতির যে দাম, দুর্গাপূজার আমেজ তো দূরের কথা, আমাদের মতো গরীব মানুষের দু'বেলা দু'মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই দুঃসময়ে উপহারগুলো পেয়ে কী পরিমাণ ভালো লাগছে বলে বুঝাতে পারবোনা। মনে হচ্ছে স্বামী-সন্তান নিয়ে এবারের দুর্গাপূজো ভালোই কাটবে'।
শুধু একজন বাসন্তী রাণীই নন, বর্তমান বাজারে জিনিসপাতির লাগামহীন দামে হিমশিম খাচ্ছে সকল শ্রেণির মানুষ। তাই নিজেদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গোপূজোয় বিনামূল্যে এতগুলো উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত উপহার নিতে আসা সকলেই।