ভারতের সাবেক অধিনায়ক, কিংবদন্তি স্পিনার বিষেন সিং বেদী আর নেই। ৭৭ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন তিনি। ফ্লাইট এবং ঘূর্ণির নান্দনিক সৌন্দর্যে মোড়া ছিল তার বোলিং স্টাইল। বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের যে জাদুতে মগ্ন বর্তমান ক্রিকেটবিশ্ব, তার শুরুটা বিষেন সিংয়ের মাধ্যমেই। তার নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় করে ভারত।
১৯৪৬ সালে অমৃতসরে জন্ম নেয়া এই কিংবদন্তির মাধ্যমেই স্পিন বোলিং বিভাগে বিপ্লব ঘটায় ভারত। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন বিষেন সিং বেদি। দেশটির স্পিন বিভাগের নেতৃত্ব দিয়ে ৬৭ টেস্টে নিয়েছেন ২৬৬টি উইকেট। ১০ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে নেন ৭ উইকেট।
ভারতের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক ছিলেন এই স্পিন জাদুকর। ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপে, ইস্ট আফ্রিকার বিপক্ষে ১২ ওভার বোলিং করে ৮টিই দিয়েছিলেন মেইডেন। বাকি চার ওভারে ৬ রানের বিনিময়ে একটি উইকেট শিকার করেছিলেন।
মনসুর আলি খান পতৌদির পরে ১৯৭৬ সালে ভারতের অধিনায়কত্ব পান তিনি। ঘরোয়া কাঠামোর বেশিরভাগ সময়ই খেলেছেন দিল্লির হয়ে। তবে শুরুটা উত্তর পাঞ্জাবের হয়ে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা ১৫৬০টি।
ফিঙ্গার স্পিনার হিসেবে বেদী বলতেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ আমার আঙুল। আমি নিজের কাপড় নিজে ধুতাম, যেটি আমার আঙুল ও কবজিকে শক্তিশালী রাখত, একই সঙ্গে নমনীয়ও রাখত। ডাম্বেল হয়তো শক্তি বাড়ায়, তবে সেটি নমনীয়তা বাড়ায় না।’
আর বোলিং কতটা ভালোবাসতেন, সে ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আসলে বোলিংয়ে মোহাচ্ছন্ন ছিলাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করতাম।’
বেদীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিসিসিআই। ভারতের অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এক্সে লিখেছেন, ‘কিংবদন্তি বিষেণ সিং বেদীর মৃত্যুতে শোকাহত। বড় একজন ক্রিকেটারের বাইরে তিনি দারুণ এক ব্যক্তি ছিলেন, তরুণ ক্রিকেটারদের সহায়তা করতে বরাবরই এগিয়ে আসতেন।’
মাঠের ক্রিকেট থেকে অবসরের পর, নিমগ্ন হন পরের প্রজন্ম গড়তে। ভারতের ক্রিকেট কাঠামোর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এই কৃতি ক্রিকেটার তার অসাধারণ অবদানের জন্য দেশটিতে সবার শ্রদ্ধার পাত্র বনে থাকবেন।