৩০ অক্টোবর থেকে পোড়া কৃষি মার্কেট নির্মাণ শুরু

৩০ অক্টোবর থেকে রাজধানীর পুড়ে যাওয়া মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা এবং মার্কেট নির্মাণের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন তিনি।

গতকাল সোমবার দুপুরে অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি মার্কেট পরিদর্শন শেষে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। এদিকে সভা চলাকালে মোবাইল ফোনে সংযুক্ত হয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি মার্কেট নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা ব্যবসায়ীরা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মার্কেট নির্মাণ করে দোকান ফিরিয়ে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই আমরা এসেছি।’

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কৃষি মার্কেটে আগের নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরু হবে। এরপর যার যেখানে দোকান ছিল, যতটুকু জায়গা ছিল; সে অনুযায়ীই আপনারা দোকান বরাদ্দ পাবেন। আপাতত আপনাদের ব্যবসা যেন বন্ধ না থাকে, আপনারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্যই আমাদের এ সিদ্ধান্ত। তবে আমরা পরে এখানে পরিকল্পিত বহুতল ভবন মার্কেট নির্মাণ করব। তখন নোটিস দিলে মার্কেট নির্মাণের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদেক খান বলেন, ‘অগ্নিকা-ে অনেক ব্যবসায়ী ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমি জানি অনেকে ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যবসা করেন। মার্কেট পুড়ে যাওয়ায় তারা কঠিন বিপদে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের বিপদে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আশা করি মেয়র দ্রুতই মার্কেটটি নির্মাণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দোকান বুঝিয়ে দিতে ব্যবস্থা নেবেন।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মীরা মানুষের বিপদে কখনো ঘরে বসে থাকে না। তারা যেকোনো বিপদে মানুষের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের কাজ দ্রুতই শুরু হবে। মেয়রের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে, শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মেয়র সমাধান করে দেবেন। ব্যবসায়ী ভাইদের একটু ধৈর্যধারণ করতে হবে।’

ডিএনসিসির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর নতুন কাঁচা বাজার (কৃষি মার্কেট) ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সলিমউল্লাহ (সলু) বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্যই আবার মার্কেট নির্মাণ করা হবে। সিটি করপোরেশন থেকে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই দোকান পাবেন। আগে বরাদ্দকৃত সবাই অবশ্যই দোকান পাবেন। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য হয়তো বেশি দোকান নির্মাণ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুনদের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বির আহমেদ সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ হোসেন, নারী কাউন্সিলর শাহিন আক্তার সাথী ও রোকসানা আলম প্রমুখ।