নকল হিজড়া চক্রের নৃশংসতা

ছিলেন পুরুষ, পরে লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন। তবে নিজের ইচ্ছায় নয়, অন্য এক নকল হিজড়ার খপ্পরে পড়ে। একটি হত্যা মামলার তদন্তে মিলেছে নকল হিজড়া চক্রের পাল্লায় পড়ে লিঙ্গ পরিবর্তন ঘটানোর এমন নৃশংসতার তথ্য। আশুলিয়ায় শাওন নামের এক ব্যক্তিকে খুনের এই মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থার প্রধান পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ৭ জুন আশুলিয়ার এনায়েতপুর গ্রাম থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পিবিআই। পরে ওই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। তার নাম রাকিব হাসান শাওন। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। নওশাদ ওরফে চম্পা ওরফে স্বপ্না নামে এক হিজড়ার সঙ্গে প্রেম করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আশুলিয়ায় একটি বাসায় বসবাস করতেন তিনি। অপর এক হিজড়ার সঙ্গে তার প্রেমের বিষয়ে জানতে পারেন স্বপ্না। এ নিয়ে ঘটনার দিন শাওনের সঙ্গে ঝগড়া হয় এবং এক পর্যায়ে স্বপ্না শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। গত ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত স্বপ্নাকে।

পিবিআই প্রধান জানান, স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেছেন, জন্মগতভাবে হিজড়া নন তিনি। তার নাম নওশাদ। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তার ১২ বছর বয়সী এক ছেলে আছে। প্রায় ১১ বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কাজকর্ম না করে বেকার ঘুরে বেড়াতেন। কিছুদিন পর তার সঙ্গে দেলু নামে এক হিজড়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। তাকেও হিজড়া হওয়ার প্রস্তাব দেন ওই দেলু। এর মাধ্যমে অনেক টাকা রোজগার করতে পারবেন বলে প্রলোভন দেখানো হয় তাকে। দেলু হিজড়ার কথায় প্রলুব্ধ হয়ে নওশাদ হিজড়াদের দলে যোগ দেন। তাদের কলাকৌশল রপ্ত করেন। প্রায় দেড় বছর পর দেলুর কথামত যশোরের একজন পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে ঢাকার উত্তরা এলাকায় অস্ত্রোপচার করে তার লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়।

বনজ কুমার বলেন, দেলু পুরুষ। কিন্তু হিজড়া সেজে থাকেন। এ ছাড়া যে পল্লী চিকিৎসক স্বপ্নার অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি একইভাবে আরও অনেকের লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন বলে পিবিআই জানতে পেরেছে।

পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, হিজড়া সাজার পরে নওশাদ তার নাম পরিবর্তন করে দেলু হিজড়ার অধীনে ৪-৫ বছর কাজ করেন। পরে ঢাকার আশুলিয়ার এনায়েতপুরে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে শাওনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

লিঙ্গ পরিবর্তনকারীদের বিষয়ে পিবিআই প্রধান বলেন, যশোরের ওই পল্লী চিকিৎসক কতজনের অস্ত্রোপচার করেছেন জানতে তদন্ত চলছে। তবে জানা গেছে, লিঙ্গ পরিবর্তন করতে তাকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হয়। আর পুরো চিকিৎসায় তিনি নেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর এই চক্রকে ভারত থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের এক গুরু মা। ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করার জন্য পিবিআই কাজ করছে বলে জানান বনজ কুমার।