বিশ্বে ২০০২ সাল থেকে এপ্রিলের ১৬ তারিখ বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালিত হয়। ব্রাজিলে ১৯৯৯ সালের প্রথম মানুষের কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং নাক কান গলা রোগ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য কণ্ঠ দিবস পালিত হয়। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির এক গবেষণায় দেখা যায়, ‘২০১২ সালে ১২৩৬০ জন কণ্ঠনালির ক্যানসারে আক্রান্ত হয়, এর মধ্যে পুরুষ ৯৮৪০ এবং মহিলা ২৫২০ জন। আমেরিকায় গত বছর কণ্ঠনালির ক্যানসারে আক্রান্ত ৩৬৫০ জন রোগী মারা যান।’ আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেফনেস অ্যান্ড কমিউনিকেশনের সূত্রমতে, ৭.৫ মিলিয়ন সব বয়সের জনগণ কোনো না কোনো কণ্ঠস্বরজনিত সমস্যায় ভুগছেন। আমরা কণ্ঠস্বর সম্পর্কে সচেতন নই এবং ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। ওই প্রবন্ধের লেখকের এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে শতকরা ১১ জন কোনো না কোনো কণ্ঠনালির সমস্যায় ভুগছে। কণ্ঠনালির সমস্যাগুলো হলোÑ কণ্ঠনালির প্রদাহ, নডিউল, পলিপ, কণ্ঠনালির প্যারালাইসিস, কণ্ঠনালির ক্যানসার ও অন্যান্য। সাধারণত শিক্ষক, আইনজীবী, গায়ক, রাজনীতিবিদ, হকার এবং যাদের বেশি কথা বলতে হয়, তাদের কণ্ঠনালির সমস্যার ঝুঁকি বেশি। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করলে সব রোগ এমনকি কণ্ঠনালির ক্যানসারও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। পারস্পরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো কণ্ঠ বা কথা বলা। বিশ্ব কণ্ঠ দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং সেই সঙ্গে কীভাবে কণ্ঠকে সুস্থ রাখা যায় ও তার প্রতিকার সম্পর্কে জনগণকে জানানো।
শব্দযন্ত্র দ্বারা কীভাবে কথা বলা যায়
আমাদের গলার সামনে ল্যারিংস বা শব্দযন্ত্র (ঠড়রপব নড়ী) অবস্থিত। ল্যারিংস বা শব্দযন্ত্রে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে। এই কর্ড দুটির কম্পনের মাধ্যমে শব্দ তৈরি হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ফুসফুস থেকে প্রবাহিত বাতাস ভোকাল কর্ডে কম্পনের সৃষ্টি করে। কথা বলা বা গান গাওয়ার সময় এই পরিমাণ প্রতি সেকেন্ডে ১০০ থেকে ১০০০ বার। একজন বয়স্ক মানুষের দিনে এক মিলিয়ন বার ভোকাল কর্ড দুটির সংস্পর্শ হয়। অতএব, চিন্তা করুন ভোকাল কর্ডের ওপর আমরা কতটা নির্ভরশীল কাজে, গৃহে ও সব সময় সবখানে। তাই কণ্ঠকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখা খুবই দরকার। এ ছাড়া কণ্ঠস্বরেও প্রকাশ পায় আমাদের ব্যক্তিত্ব।
কণ্ঠনালির সমস্যার কারণগুলো
কণ্ঠনালির সমস্যার জন্য উপসর্গ হলো গলাব্যথা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, কাশি, কিছু গিলতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। যদি ঘন ঘন কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয় বা দীর্ঘদিন বা দুই সপ্তাহে ভালো না হয়, অবহেলা না করে নাক কান ও গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রাখা ভালো।