মজুরি বৃদ্ধির দাবি: শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের বাধা, সংঘর্ষ

সাভারের হেমায়েতপুর ঋষিপাড়া এলাকায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এসময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নিলে পুলিশের সাথে বাগবিতন্ডা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে অন্তত ২০ শ্রমিক আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে শ্রমিকরা। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় এক শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঋষিপড়া পদ্মার মোড়, নাজিম নগর এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। রবিবার সকালেও ঋষিপাড়া এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ ও ব্যাবিলন গ্রুপের অবনী ফ্যাশন লিমিটেড কারখানা হাজারো শ্রমিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় নেমে আসে। এসময় মোটরসাইকেল ও গাড়িবহরসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে কিছু লোক বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এঘটনা জানাজানি হলে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও রাস্তায় নেমে আসে।

একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলায় পুলিশের সাথে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া সংঘর্ষ শুরু যায়। এছাড়া বহিরাগত লোকজন শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানোয় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা পুলিশ ও হামলাকারীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়।

পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় মহারাজ নামে অবনী ফ্যাশন কারখানার এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত অবনী ফ্যাশনের অপারেটর মহারাজ বলেন, আমরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামলে পুলিশ ও বহিরাগতরা মিলে আমাদের ওপর হামলা চালায়। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতির কারণে আমরা যে বেতন পাই তা দিয়ে খাওয়াই হয়না। এরপর ঘরভাড়াসহ অন্যান্য খরচতো আছেই। জীবন বাঁচাতে আমরা যৌক্তিক আন্দোলন করলেও পুলিশ আমাদের ওপর টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। আমরা এর বিচার চাই।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্পশ্রমিক ফেডারশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলছে। রবিবার সকালে হেমায়েতপুর ঋষিপাড়া এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ ও ব্যাবিলন গ্রুপের অবনী ফ্যাশনের শ্রমিকরা কাজে যোগদান করার জন্য কারখানায় আসছিল। একপর্যায়ে হরতালের সমর্থনে স্লোগান দিয়ে কিছু লোক লাটিসোঁটা নিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই কারখানাসহ আশপাশের কারখানাগুলোর প্রায় ১০-১২ হাজার শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। এসময় বিক্ষিদ্ধ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তারা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়লে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বাড়ি চলে যায়।

সাভার মডেল থানার ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রাসেল মোল্লা বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে। এসময় শ্রমিকদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বলায় তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। শ্রমিকরা চলে যাওয়ায়ম বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।