তথাকথিত জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দেওয়া মিয়ান জাহিদুল ইসলাম আরাফি ও অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়া এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পেছনে কে? এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে বিএনপি।
দলটির নেতারা বলছেন, পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেতাকর্মী শূন্য হয়ে পড়ে। এরই মধ্য আরাফি ও সারওয়ার্দী কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে গেলেন? দলের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক কেনো সে সময় কার্যালয়ে ছিলেন? এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আজ রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথিত উপদেষ্টা মিয়ান আরাফিকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দেওয়া আরাফির সংবাদ সম্মেলনের সময় ইশরাক হোসেন পাশে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের খবর গণমাধ্যমে ভাইরাল হলে টনক নড়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে ইশরাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ইশরাক তার বক্তব্য তুলে ধরেন এবং তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য প্রচার করে। রাতেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বরাত দিয়ে দলটির মিডিয়া সেল একটি ব্যাখা দেয়।
এতে বলা হয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়ে এক ব্যক্তির বক্তব্য রাখার বিষয়টি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে বিএনপি একেবারেই অবগত নয়। ওই ব্যক্তির বিষয়ে দূতাবাস থেকে বিএনপি মহাসচিবকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। এ কারণে বিএনপি তার বক্তব্যের বিষয়েও অবহিত নয়।
তবে জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দেওয়া আরাফির সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকার বিষয়ে ইশরাক হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, সংঘর্ষের পর অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। হাসপাতালে আমি তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করি এবং অন্যদেরও খোঁজখবর নিই। পরে আরও কিছু নেতা-কর্মী আহতাবস্থায় বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে শুনে তাদের খোঁজখবর নিতে সেখানে যাই। তার পরপরই সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল হাসান সারওয়ার্দী দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন।
তিনি বলেন, হাসান সারওয়ার্দীর সঙ্গে আসা একজন নিজেকে মার্কিন প্রেসিডিন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা বলে পরিচয় দেন। আহতদের সঙ্গে কথাও বলতে চান। আহতরা সে সময় কার্যালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন কক্ষেই অবস্থান করছিলেন। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলার পর সেখানে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ সময় তাদের সঙ্গে আমাকেও বসতে বললে সে পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে আমিও অংশ নেই। এর বাইরে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে আমি আর তেমন কিছু জানি না।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ামিয়া আরাফিকে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসসহ কোন কোন ব্যক্তিকে বার্তা পাঠিয়েছেন তার ফিরিস্তি দিচ্ছেন। এমনকি তাকে বলতে শোনা যায় দেশের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্রসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসানীতি প্রয়োগের বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অবহিত করবেন।
মিয়া আরাফি দাবি করেন, শনিবারের ঘটনার প্রতিবেদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে পাঠিয়েছেন।
এদিকে গত শনিবার দিনব্যাপী সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে একটি প্রতিনিধি দল বিএনপি কার্যালয়ে যাচ্ছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট 'জো বাইডেনের উপদেষ্টা' পরিচয়ে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মিয়ান আরাফি নামের ওই ব্যক্তি। এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। তবে এমন ব্যক্তিকে চেনে না বলে জানায় ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
শনিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র স্টিফেন ইবেলি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ধরনের খবর পুরোপুরি অসত্য।’ এরপর বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়ে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা ব্যক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান- কে এই ব্যক্তি? তিনি কোন দলের হয়ে কাজ করছেন? জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ‘ওই ভদ্রলোক যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে কথা বলছেন না। তিনি একজন বেসরকারি ব্যক্তি।’
মিয়ান জাহিদুল ইসলাম আরাফির (বেল্লাল) বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। বেল্লাল মিয়া ১৯৮৭ সালে তার ভাইয়ের সাথে ফ্যামিলি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। তার এক আত্মীয় ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক কমিটি মেম্বার হিসেবে তার একটি আইডি কার্ডও ফেসবুকে দিয়েছিলেন।
অনলাইনে সার্চ দিয়ে পাওয়া যায়, এই টাইপের প্লাস্টিক কার্ড বিতরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে দলগুলো চাঁদা তুলে থাকে। ২৫ ডলার দিলেই একটি প্লাস্টিক কার্ড দেয়।