মডেল মসজিদ সন্ত্রাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেছেন, দেশজুড়ে তৈরি হওয়া মডেল মসজিদে ইমাম ও খতিবরা সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও সরকারের নীতিগুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। এভাবে ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রেখে সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার মহান ব্রত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশজুড়ে মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইসলামসহ সব ধর্মের প্রতি ছিল অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান। তিনি দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তারই করা ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট, ১৯৭৫-এর ১১(ক) ধারা বলে দেশব্যাপী মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্ভাবন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তারই চিন্তার আলোকে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছে।  তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং সরকারের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে মডেল মসজিদগুলো বড় ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া মুসল্লিদের জন্য নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব মডেল মসজিদের সঙ্গে আরও থাকছে, লাইব্রেরি, গবেষণা ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ। পাশাপাশি কোরআন পাঠ ও কোরআন অধ্যয়নের জন্য পর্যাপ্ত বই ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকছে।

তিনি আরও বলেন, মডেল মসজিদগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক অজু ও নামাজের ঘর তৈরি করা হবে। অতিথিশালা বা বিদেশি পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। মৃতদের সুন্দর উপায়ে গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হজযাত্রী ও ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে। সর্বোপরি ইসলামিক জীবন ও সংস্কৃতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধের পরিচর্যা ও প্রসার করা হবে।  শরীফ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ইচ্ছায় সম্পূর্ণ নিজস্ব টাকায় মডেল মসজিদ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি জেলা সদর ও পাঁচটি সিটি করপোরেশন এলাকায় চারতলা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং কিছু শেষ হয়েছে। আর ৪৭৯টি উপজেলা সদরে তিনতলা মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ এবং ১৬টি উপকূলীয় এলাকায় চারতলা মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই প্রকল্পে বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। জমি বাছাই ও ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণকাজ শুরুর পর নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বেড়ে যাওয়ায় নানা প্রতিকূলতা মাড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যেও ইতিমধ্যে ২৫০টি মসজিদ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, মডেল মসজিদগুলোতে পবিত্র কোরআন-হাদিসের চর্চার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত কয়েক হাজার পাঠক নিয়মিত ইসলামের নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন। ইসলামিক গবেষণা, কোরআন হিফজ করা এবং শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবেন।