চলে গেছেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা, রাখছেন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ

অপারেশনের পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। অপারেশনের পর যে ব্যথা ছিল তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে হাসপাতাল গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। তার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা চিকিৎসকরা অপারেশনের দুইদিন পর চলে গেলেও হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।

ডা. রফিক বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অপারেশন শেষে দুইজন চিকিৎসক গত শুক্রবার দেশ ত্যাগ করেন। অপর জন শনিবার চলে যান। বিদেশি চিকিৎসকদের এই অস্ত্রোপচারের ফলে খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসজনিত যে জটিলতা ছিল, তার কিছুটা উপশম হবে। তবে তার লিভারের পুরো চিকিৎসা করতে হলে তাকে বিদেশে উন্নত কোনো মাল্টি ডিসিপ্লিনারী ট্রিটমেন্ট সেন্টারে নিতে হবে। এর চিকিৎসা জার্মানীতে সব চেয়ে ভালো হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুরে লিভার প্রতিস্থাপনের সর্বোচ্চ সুবিধা রয়েছে।’

গত ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিন চিকিৎসক বাংলাদেশে আসেন। তারা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হামিদ আহমাদ আবদুর রব, ইন্টারভেনশনাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস ও হেপাটোলজির অধ্যাপক জেমস পিটার হ্যামিলটন। এই তিন চিকিৎসকের নেতৃত্বে গত ২৬ অক্টোবর খালেদা জিয়ার লিভারের রক্তনালিতে সফল অস্ত্রোপচার হয়। এরপর খালেদা জিয়াকে করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়। পরবর্তীতে তাকে কেবিনে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, হার্ট, চোখের সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছেন। তার হার্টে তিনটি ব্লকের মধ্যে একটিতে রিং পরানো হয়।