মহেশখালীর তৃতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিতে প্রকল্প

মহেশখালীতে গভীর সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। এরমধ্যে মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ নামের অথনৈতিক অঞ্চলটিতেই মোট জমির পরিমাণ ১ হাজার ২৪০ একর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৭০ একর জমি। কাজও চলছে পুরোদমে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা এগিয়ে নিতে সেখানে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগের জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সব প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করা এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবে। এতে মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ১৫ কিলোমিটারের গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন, ইনডোর সাব স্টেশন স্থাপন, একটি ইটিপি নির্মাণ, ৬ তলা ভিত্তির ওপর দুই হাজার ১৫ বর্গফুটের চার তলা অফিস ভবন তৈরি, অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে ৬ কিলোমিটারের রাস্তা নির্মাণ, সাড়ে ১২ কিলোমিটারের ফুটপাত নির্মাণ, পয়:নিষ্কাশনের ২৭ কিলোমিটারের সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে।

এ প্রকল্পটির পুরো অর্থই ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এতে বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদে সরকারের কাছ থেকে ১ হাজার ১৯৫ কোটির এ ঋণ নিচ্ছে বেজা।

প্রকল্পটি হাতে নেয়ার আগে, সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)। তাদের দেওয়া ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৪ সালে জাপান সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজিবি) নামে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এ উন্নয়ন পরিকল্পনায় মহেশখালী এলাকায় গভীর সমুদ্র বন্দরসহ সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ হাব এবং ভারি শিল্প স্থাপনার একটি রূপরেখা ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর বেজা'র গভর্নিং বোর্ড সভায় মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা মৌজায় ১ হাজার ২৪০ একর জমিতে মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

যেকোনো শিল্প স্থাপনার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইতোমধ্যে ৫৭০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ এ জমি বরাদ্দপ্রাপ্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজা।