নৃত্যের মাধ্যমে শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চা ও গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৬ দিনব্যাপী গণজাগরণের নৃত্য উৎসব। গত ২৬ অক্টোবর উৎসবের পঞ্চম দিন বাংলাদেশের অন্যতম ওড়িশি নৃত্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওড়িশি অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, চট্টগ্রামের নৃত্যশিল্পীরা ‘বিজয়ালক্ষ্মী নারী’ শীর্ষক নৃত্যালেখ্য তুলে ধরেন দর্শকদের সামনে। আমাদের প্রাণের কবি গানের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ‘নারী’ তার কাছে প্রেরণার উৎস, জীবনের নির্দেশিকা নক্ষত্র। এই জগৎ সংসারের আদিকাল থেকে উজ্জ্বল হয়ে আছে নারী পুরুষের যৌথ খামারের জয়গান। কিন্তু কালের বিবর্তনে নারী হয়েছে পুরুষের নির্যাতনের শিকার। হয়েছে অবদমিত, পদদলিত। তবে নজরুল নারীকে দেখেছেন শক্তির আদি উৎস হিসেবে। কখনো নারী নির্মল প্রাণদায়িনী আবার কখনো অসুরদলনী। এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে নৃত্যালেখ্যর মধ্যে। নৃত্যদলটির সময়োপযোগী এমন প্রযোজনার প্রশংসা করেন উপস্থিত দর্শকরা।
উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। গীতি নৃত্যালেখ্যর নির্মাণ, ভাবনা ও পরিচালনা করেছেন ওড়িশি নৃত্যশিল্পী প্রমা অবন্তী। নৃত্য পরিবেশন করেন ময়ূখ সরকার, অর্জিতা সেন চৌধুরী, মৈত্রী চক্রবর্তী, তাহিয়া তানভীন দিহান, অবন্তী বড়ুয়া, সর্বাণী দত্ত, ঈষিকা দাশ, বৈশাখী বড়ুয়া, শ্রাবণী ধর ও সরিমা সরকার সৃজা। আলোক প্রক্ষেপণে ছিলেন অভ্র বড়ুয়া ও শব্দ প্রক্ষেপণে সুমেধ বড়ুয়া। গ্রন্থনা করেছেন অধ্যাপক সনজীব বড়ুয়া। দেশের ৬৭টি নৃত্য দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। গত ২৭ অক্টোবর এই বৃহৎ উৎসবের পর্দা নামে।