চার দিন ধরে তালাবদ্ধ বিএনপির কার্যালয়

বিএনপির ডাকা তিন দিনের অবরোধের দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় কোনো নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। চারদিন ধরে দলটির কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। তবে সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে।

এছাড়া সকাল থেকে প্রায় সব দোকান ও মার্কেট খোলা দেখা গেছে। যা গত চার দিনে অনেক কম ছিল। কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় গাড়ি চলাচল কম দেখা গেছে। শনিবার দলীয় নেতারা কার্যালয় ত্যাগ করার পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটিকে ক্রাইম সিন হিসেবে এলাকাটি ঘিরে রাখে। গতকাল পুলিশ ক্রাইম সিন সরিয়ে নেয়।

কার্যালয়ে সামনে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকে তালাবদ্ধ কার্যালয়। প্রথম দু’দিন বিএনপির কার্যালয় ছিল সিআইডির ক্রাইম সিনের আওতায়। মঙ্গলবার কার্যালয় ক্রাইম সিনের আওতা মুক্ত হলেও গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ আসেননি। বিএনপি কার্যালয় সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। আর কার্যালয়ে সামনের ও আশপাশের সড়কের ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলেছে সিটি কর্পোরেশন।

এদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসা-অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ ৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে। এ অবস্থায় নয়াপল্টন কার্যালয়ে গেলে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে কারণে কেউ কার্যালয়ে যাচ্ছে না। কবে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে যেতে পারবে ও দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে, তা বলা যাচ্ছে না।

নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বাসা-বাড়িতে থাকতে পারছি না। তাহলে আপনারাই বলেন, কীভাবে আমরা দলের কার্যালয়ে যাব?