বাংলালিংক ও টেলিটক গ্রাহকদের নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের সুযোগ

ন্যাশনাল রোমিং যুগে প্রবেশের মাধ্যমে ডিজিটাল সংযুক্তি সম্প্রসারণে আরও একটি মাইলফলক স্থাপন করল বাংলাদেশ। দেশে প্রথমবারের মতো বাংলালিংক এবং টেলিটক জাতীয় রোমিং ফিল্ড চালু করল। যার মাধ্যমে অপারেটর দুটির গ্রাহকেরা কোনো স্থানে তাদের ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত হলে সেখানে একে অপরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন।

অর্থাৎ কোনো স্থানে বাংলালিংকের নেটওয়ার্কে সমস্যা থাকলে টেলিটক এবং একইভাবে টেলিটক গ্রাহকের সমস্যা হলে তিনি তখন বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মোবাইল সেবা নিতে পারবেন। প্রাথমিক অবস্থায় পরীক্ষামূলকভাবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে এ সেবা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে দেশব্যাপী সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরীক্ষামূলক এ সেবার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জাতীয় রোমিং ফিল্ড ট্রায়ালের উদ্বোধনকে ডিজিটাল সংযুক্তির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় জীবনে ডিজিটাল সংযুক্তির সম্প্রসারণে আরও একটি নতুন মাইলফলক এটি। এমন একটি দিনের জন্য সুদীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশে কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যেই ডিজিটাল সংযুক্তিতে বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল সংযুক্তি শ্বাস প্রশ্বাসের মতো অপরিহার্য হয়ে ওঠেছে।

তিনি বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নেতৃত্বে বিটিআরসির নিরলস প্রচেষ্টায় গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় একদেশ এক রেট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রবর্তন, দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ এলাকায় ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড সুবিধা পৌঁছে দেওয়াসহ নানামুখি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, 'আমরা মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। ডিজিটাল সংযুক্তি গড়ে তুলতে না পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশ হতো না। স্মার্ট কানেক্টিভিটির সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। বাংলালিংক ও টেলিটকের মধ্যে এই কৌশলগত অংশীদারত্ব দেশব্যাপী টেলিটক ও বাংলালিংক গ্রাহকদের মোবাইল সংযোগের পরিসর বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অপারেটর দুটির মধ্যে অবকাঠামো শেয়ারিংয়ে ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগ দেশে শক্তি সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণকেও উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি টেলিকম অপারেটরদের মধ্যে অবকাঠামো শেয়ারিংয়ের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এটি উভয় অপারেটরের জন্যই ইতিবাচক, কারণ এর মাধ্যমে তারা একে অপরের অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পৃথিবীর ২২টি দেশে ন্যাশনাল রোমিং চালু রয়েছে। এটি গ্রাহক এবং অপারেটরের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি পদ্ধতি।