যশোরে বিআরটিসি বাসে আগুন

যশোর শহরের মনিহার বাস টার্মিনালে থেমে থাকা বিআরটিসির একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বাসটির পেছনের অংশে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা চেঁচামচি, ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও পরিবহন শ্রমিকরা প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বাসটি পুড়ে গেলেও এতে কেউ হতাহত হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‍্যাবের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) বেলাল হোসাইন জানান, অগ্নিকাণ্ডের  সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী বা চালক ছিলেন না। আগুনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাসটি নিজেই চলতে শুরু করে। তবে গতি কম থাকায় সামনের চাকায় ব্যারিকেড দিয়ে থামাতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও বলেন, এটা অবরোধকারীদের কাজ নাকি অন্য কোনোভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।

পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়ন যশোরের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ ফুলু জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিআরটিসির বাসটি শুক্রবার সকালে যশোর থেকে যাত্রী নিয়ে ভোলার চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবার কথা ছিল। বাসে ৫০ কার্টুন মোটর যন্ত্রাংশ ছিল। ব্যবসায়ীরা এগুলো ভোলার চরফ্যাশনে পাঠাতে বাসে তুলেছিলেন। 

ফুলু এ ঘটনার জন্য অবরোধকারী রাজনৈতিক দলকে দায়ী করে বলেন, তিন দিনের অবরোধ শেষে আরও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। তা পালনে ভয়-ভীতি দেখাতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

একই দাবি করেছেন যশোর  সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। তবে তা অস্বীকার করেছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নস্যাৎ করতে এটি সরকারের ষড়যন্ত্র। বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করছে। এমন কোন কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে না যাতে সাধারণ মানুষের কোন ক্ষতি হয়।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে আসে অগ্নি নির্বাপক দল। তিনটি গাড়ির যৌথ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখনও বোঝা যাচ্ছে না আগুন লাগানো হয়েছে নাকি গাড়ির ত্রুটিতে ধরেছে।