ঘোষণা দিয়েও অবরোধে বাস চালাননি পরিবহন নেতারা! 

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ডাকা দেশ জুড়ে টানা ৭২ ঘণ্টার অবরোধে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। আর দূরপাল্লার বাস চলাচল বলতে গেলে বন্ধই ছিল। যদিও অবরোধ চলাকালে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন বাস মালিক সমিতির নেতারা। কিন্তু তাদের মালিকানাধীন সব বাস অবরোধ চলাকালে রাস্তায় না নামানোয় ওই ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষে সংগঠনটির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করে গাড়ি চালানোর ঘোষণা দিলেও তার প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ বাসই রাস্তায় নামেনি। অবশ্য তার প্রতিষ্ঠানের সব গাড়ি অবরোধে চলাচল করেছে বলে এনায়েত উল্লাহ দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেছেন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, অবরোধের কারণে টানা তিন দিন বসে থাকার পর দূরপাল্লার বাসগুলো সকাল থেকে চলাচল শুরু করেছে। অবশ্য আগের রূপে ফেরেনি বাস টার্মিনালগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অবরোধের প্রথম দিন অনেক রুটে পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহর প্রতিষ্ঠান এনা পরিবহনের বাস চলাচলের সংখ্যা ছিল স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম। বেশ কয়েকটি রুটে বন্ধ ছিল তার প্রতিষ্ঠানের বাস চলাচল। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-সিলেট রুটে দুদিনে শতাধিক বাস চলাচল করলেও বাকি রুটগুলোতে সেভাবে চলাচল করতে দেখা যায়নি। অবরোধের আগে হরতালের দিন এই পরিবহন নেতার প্রতিষ্ঠানের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

শুধু এনায়েত উল্লাহই নন, অন্য আরও অনেক নেতার প্রতিষ্ঠানের বাসগুলোর চলাচলের ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকায় সদরঘাট-মিরপুর রুটে চলাচল করে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি শফিকুল আলমের তানজিল পরিবহনের বাস। কিন্তু তিন দিনের অবরোধে এ পরিবহনের বাস চলাচল করতে দেখা গেছে নগণ্য সংখ্যায়। এ ছাড়া ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের বিকল্প পরিবহনের বাসও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অর্ধেক সংখ্যক চলাচল করতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, পরিবহন নেতাদের বাস সব মিলিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলেছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। কিন্তু বিপরীত চিত্র দেখা যায় পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সদস্যদের ক্ষেত্রে। অবরোধ চলাকালে সড়কে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসই ছিল তাদের। অবরোধে এবং রাজধানীর মিরপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় বেশ কিছু বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর মধ্যেই বাস চালিয়েছের সাধারণ বাস মালিকরা। কিন্তু পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা ঘোষণা দিয়েও তাদের মালিকানাধীন কোম্পানির বাস কম চালানোয় ক্ষুব্ধ সাধারণ বাসমালিকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসমালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিবহন নেতারা আমাদের হরতাল অবরোধে বাস নামাতে বলেন সড়কে। কিন্তু তাদের গাড়ি সড়কে দেখা যায় না। আমার মতো সাধারণ বাসমালিক যারা আছে, তাদের গাড়ির কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা (পরিবহন নেতারা) অবরোধে সড়কে গাড়ি নামালে ক্ষয়ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দিলেও পরে আর কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিকল্প পরিবহনের মালিক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার গাড়িগুলো অবরোধের সময় সড়কে তুলনামূলক ভালোই চলাচল করেছে। তবে অবরোধের জন্য অনেক সময় চালক পাওয়া যায় না। সেই সঙ্গে যাত্রীও কম থাকায় সব গাড়ি সড়কে নামানো হয়নি।’

আর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার কাছে রেকর্ড আছে, আমার গাড়ি অবরোধের মধ্যে চলাচল করেছে। এখন সারা দেশে আমার ৩০০ গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু যদি যাত্রী না থাকে তাহলে কীভাবে সব গাড়ি চলবে।’ আগামীতে যে অবরোধ কর্মসূচি আসছে, সে সময় গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলেও দাবি করেন এ পরিবহন নেতা।