৫২ হাজার শিক্ষার্থীদের পাশে ‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’

কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার ৫২ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’। এর মধ্যে ১৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরতা কর্মসূচি এবং ১০টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ছাত্রীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে শনিবার ‘বিনিয়োগে অগ্রাধীকার, কন্যা শিশুর অধিকার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারে আর্ন্তজাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে এক ঝাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্থাটি।

রুম টু রিড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অপারেশনস ডিরেক্টর বদরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপ্তি চাকমা বলেন, ‘সামাজিক কুসংস্কারের বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এসেই আমি সামনে এগিয়েছি। থেমে না গিয়ে তোমাদেরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’ রুম টু রিড বাংলাদেশ বিদ্যালয়সমূহে যেসব কর্মসূচি পরিচালনা করছে তার প্রশংসা করে তাপ্তি চাকমা বলেন, ‘এই কাজগুলো অব্যাহত রাখার ব্যাপারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে। এগুলো সবজায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে।’ 

সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী নাফিসা তাবাসসুম ওয়াসিফা এবং খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসমিয়া নূর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বাল্যবিবাহ ও যৌতুককে ‘না’ বলে তোমাদের বাবা-মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান হতে হবে। রুম টু রিড বাংলাদেশের কর্মসূচিভুক্ত বিদ্যালয়সমূহে এক স্বপ্নের বাগান রচনা করছে যা এই জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হচ্ছে।

শহরের কলাতলী সড়কের একটি তারকা মানের হোটেলের হলরুমে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের রুম টু রিড’র কর্মসূচিভুক্ত বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা নিজ হাতে অংকিত ছবি দিয়ে বরণ করে নেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও বেলুন ওড়ানোর মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন  বদরুজ্জামান খান। 

১০টি বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নির্মিত দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে সাজানো হলরুমে রুম টু রিড’র পরিচিতি, কর্মপরিধি ও কক্সবাজার জেলায় পরিচালিত কর্মসূচিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রাসমা মোজাফ্ফর। পরে রুম টু রিড বাংলাদেশ কক্সবাজার অফিসের ফিল্ড ম্যানেজার চিত্তপ্রিয় আচার্য্যরে সঞ্চালনায় কক্সবাজার জেলায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা পরিচালনায় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ‘আমাদের পথচলায় আপনাদের অনুপ্রেরণা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় কক্সবাজারে মেয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বাস্তবায়নে অন্তরায় হিসেবে বাল্য বিয়ের হার বৃদ্ধি, পড়াশোনায় অনীহা, স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, পরবর্তী শ্রেণীতে অনুত্তীর্ণ, স্থানাস্তর, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের কথা উঠে আসে। 

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও অন্যান্য পাঠ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মেয়েশিশুদের আরো উৎসাহ প্রদানের জন্য রুম টু রিড বাংলাদেশের কর্মসূচিভুক্ত ১০টি বিদ্যালয়ের এ বছরের নির্বাচিত সেরা ছাত্রীদের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও ১০টি বিদ্যালয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

আয়োজনের শেষ খুরুশকুল উচ্চ বিদ্যালয় এবং ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা নৃত্য, শেখ হাসিনা জোয়ারিয়ানালা স্কুল এবং মনসুর আলী সিকদার আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা গান, ইলিয়াস মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা নাটক এবং জোয়ারিয়ানালা হাজী মোহাম্মদ সাঁচী উচ্চ বিদ্যালয়, জারাইলতলী উচ্চ বিদ্যালয় ও দক্ষিণ খুরুশকুল আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীরা সচেতনতামূলক গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন।