মসজিদে কারও জন্য জায়গা নির্ধারণ করা

মসজিদ আল্লাহর ঘর। প্রিয় স্থান। এখানে ধনী-গরিব সবাই সমান। এখানে ইমাম-মুয়াজ্জিন ছাড়া বিশেষ কারও জন্য জায়নামাজ ইত্যাদি রেখে জায়গা নির্দিষ্ট করে রেখে দেওয়া উচিত নয়।

কেউ যদি প্রথম কাতারে নামাজ পড়ার ফজিলত অর্জন করতে চায়, তার উচিত আগে আগে মসজিদে চলে আসা। কারণ নামাজের জন্য অপেক্ষা করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার নামাজের স্থানে থাকে তার অজু ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য মালাকরা (ফেরেশতারা) এই বলে দোয়া করেন যে হে আল্লাহ, আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন; হে আল্লাহ, আপনি তার ওপর রহম করুন। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির নামাজই (নামাজের অপেক্ষায় বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকে যে) তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখে, সে নামাজে রত আছে বলে পরিগণিত হবে। -সহিহ বোখারি : ৬৫৯

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, এক রাতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার নামাজ অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্ব করে আদায় করলেন। নামাজ শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, লোকেরা নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ নামাজের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ নামাজে রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে। -সহিহ বোখারি : ৬৬১

তা ছাড়া মসজিদে পরে এসে সামনের কাতারে যেতে গেলে মানুষের ঘাড় টপকে যেতে হয়, যা মানুষকে কষ্ট দেওয়ার শামিল। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তার সাহাবিদের এমন করতে নিষেধ করেছেন।

তাই সবার উচিত মসজিদে আগে আগে এসে মহান আল্লাহর রহমতের অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করা।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে আগেভাগে গিয়ে প্রথম কাতারে নামাজ পড়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ জানতে পারত, আজান দেওয়া এবং প্রথম কাতারে নামাজ আদায়ের মধ্যে কী ফজিলত রয়েছে, আর লটারি ছাড়া সেটি পাওয়া সম্ভব না হতো, তাহলে অবশ্যই তার জন্য লটারির ব্যবস্থা করত। এবং যদি জানতে পারত মসজিদে আগে আসার মধ্যে কী ফজিলত রয়েছে, তাহলে তার জন্য হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আগে আসত।’ -সহিহ বোখারি : ৫৯০

তাই আমাদের উচিত মসজিদে প্রথম কাতারে নামাজ পড়ার ফজিলত ও নামাজের জন্য অপেক্ষা করার ফজিলত অর্জন করার জন্য আগে আগে মসজিদে চলে যাওয়া। আর মসজিদ যেহেতু আল্লাহর ঘর, এখানে ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সবাই সমান। সবাই আল্লাহর গোলাম। এখানে কারও জন্য জায়নাজা ইত্যাদি বিছিয়ে জায়গা দখল করা, অন্য কেউ সেখানে বসতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া মারাত্মক অন্যায়। মসজিদে যে যত আগে আসতে পারবে, সে তত সামনে বসার অধিকার রাখবে। -আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৬