একটু আগেই সংবাদ সম্মেলনে এসে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে ১৪৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইমআউট নামক অদ্ভুত আউটে বাধ্য করায় কোনো অনুশোচনা না থাকার কথা বলে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সাকিবের বিদায়ের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন সেই ম্যাথিউস। এসেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ দল ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে কান্ডজ্ঞানহীনও বললেন। আম্পায়াররাও তাদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করেননি দাবি করেছেন এ লঙ্কান ক্রিকেটার।
সংবাদ সম্মেলনে এসেই ম্যাথিউসের দাবি, ‘আমি কোনো ভুল কিছু করিনি। আমি নির্দিষ্ট ২ মিনিটের মধ্যেই উইকেটে গিয়েছিলাম। নিজেকে প্রস্তুতও করেছিলাম। ঠিক সময় ক্রীড়া সরঞ্জামে একটা সমস্যা তৈরি হয়। আমি জানি না সাধারণজ্ঞানটা কোথায় হারিয়েছিল। অবশ্যই এটা সাকিব ও বাংলাদেশের জন্য অসম্মানজনক। এভাবে যদি তারা এ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলতে চায়, তবে তারা ভুল পথেই এগোবে। আইন বলছে, আমাকে ২ মিনিটের মধ্যে প্রস্তুত হতে হবে। আমি সেটাই করেছিলাম। যখন আমার হেলমেট ভাঙা পাওয়া যায়, তখনো ৫ সেকেন্ড সময় বাকি ছিল। পুরো বিষয়টি আমার কাছে কা-জ্ঞানহীনতা মনে হয়েছে। খেলাটাকে অসম্মানিত করা হয়েছে। তাতে আমি সত্যিই ধাক্কা খেয়েছি।’
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত না মিলিয়েই ড্রেসিংরুমে ফিরে যায় শ্রীলঙ্কা দল। এটা নিয়ে শ্রীলঙ্কার এক সাংবাদিকের প্রশ্নে ম্যাথিউস বলেন, ‘আপনি তাকেই সম্মান করবেন, যে আপনাকে সম্মান করবে। তাদের এ খেলাটাকে সম্মান জানানো উচিত ছিল। এই সুন্দর খেলাটার আমরা সবাই দূত। আম্পায়াররাও এর বাইরে নন। যখন আপনি সম্মান করবেন না, নিজের সাধারণজ্ঞানটা ব্যবহার করবেন না, তখন আসলে কিছুই বলার থাকে না।’
এ ঘটনার পরপরই আইসিসি অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ম্যাচের চতুর্থ আম্পায়ারের একটি ব্যাখ্যা প্রকাশ করে। যেখানে আম্পায়ার স্পষ্ট জানান, হেলমেট ভাঙার আগেই নির্দিষ্ট ২ মিনিট সময় পেরিয়ে গেলেও খেলার জন্য ম্যাথিউস প্রস্তুত হননি।
আম্পায়ারের এ বিষয়টির বিরুদ্ধাচারণ করে ম্যাথিউস বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ আছে যে, আমি ২ মিনিটের মধ্যেই ক্রিজে ছিলাম। আমি অহেতুক মুখের কথা বলতে আসিনি। আমি এখানে এসেছি প্রমাণ নিয়ে। প্রমাণ আছে যে, আগের উইকেটের ক্যাচটা ধরা থেকে আমার ক্রিজে আশা পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ সেকেন্ড বাকি ছিল হেলমেট ভাঙার আগপর্যন্ত। আপনারা নিরাপত্তার কথা বলেন, আমি নিজের সুরক্ষা চিন্তা কি করব না? এ জায়গায় আমার মনে হয় আম্পায়ারদের বড় একটা দায়িত্ব ছিল পুরো বিষয়টা ভালোভাবে যাচাই করার।’