গত সোমবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শিকারিকান্দা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শেরপুরগামী ফাইয়াজ অ্যান্ড তাজ পরিবহন একটি পিকআপকে ওভারটেক করার সময় মহাসড়কের ডিভাইডার এর ওপরে উঠে গিয়ে বিলবোর্ডের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে বিলবোর্ডটি ভেঙ্গে পড়ে বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে দুই জন মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আহত ৪০ জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলো-বাসের হেলাপার ত্রিশালের ধানীখোলা চর কুমারিয়া গ্রামের রকিব মিয়া(৩২) ও বাসের চালক ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (৫৫)। নিহত বাকি দুই জনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা থেকে শেরপুরগামী ফাইয়াজ অ্যান্ড তাজ নামের যাত্রীবাহী বাস গাজীপুর পার হওয়ার পর থেকেই অতিরিক্ত গতিতে উল্টাপাল্টা চালাচ্ছিলেন চালক। যাত্রীরা বারবার তাকে সতর্ক করলেও বাসের চালক যাত্রীদের নিষেধ না শুনে বেপরোয়া গতিতেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
অবশেষে ময়মনসিংহে এসে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি দুর্ঘটনার কবলে ফেলে। এতে চারজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত ৪০ জন। এমনটিই জানান, বাসের যাত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামে আজিজুল হক।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন বাসের আহত যাত্রী গার্মেন্টকর্মী সেলিনা বেগম বলেন, গার্মেন্ট থেকে ছুটি নিয়ে বাবার বাড়ী শেরপুর সদরে যাচ্ছিলাম। অবরোধ থাকায় রাতের বাসে করে বাড়ী ফিরছিলাম। চালক বাসটি শুরুতে ভালো ভাবেই চালাচ্ছিল কিন্তু চৌরাস্তার পর থেকে চালক বেপরোয়া ভাবে গাড়ী চালাতে শুরু করে। পরে ময়মনসিংহের শিকারিকান্দায় বাস ও পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন মারা গেছে এবং অনেক মানুষ আহত হয়েছে।
হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন বাস দুর্ঘটনায় আহত ঈশ্বরগঞ্জের রুহুল আমিন বলেন,চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি আমি আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছি। এসময় স্থানীয়রা দৌড়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শী কামরুল জানান, যাত্রীবাহী বাসটি শিকারীকান্দা এলাকায় ওভারটেক করতে গিয়ে একটি পিকআপকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে। অপরদিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের ডিভাইডারে উঠে সেখানে থাকা বিলবোর্ডের পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বিলবোর্ডটি ভেঙে পড়ে যায় এবং বাসটির সামনের অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা কয়েকজন তখন সড়কের পাশে দোকানে বসা ছিলাম। শব্দ শুনে এসে দেখি অনেক লোক আহত, বাসের চাপায় দুইজন ঘটনাস্থলে মারা গেছে। আশপাশের লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরদার জানান, রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে আমাদের পাঁচটি ইউনিটসহ পুলিশ সদস্যরা এসে উদ্ধার কাজ চালায়। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সকালে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ভেঙে পড়া বিলবোর্ড সড়ক থেকে সরানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাতে বাস দূর্ঘটনায় আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন ৪০ জন। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছুটি নিয়েছেন। গুরুত্বর আহত বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত ৪০ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের মাঝে বাসের হেলপার রকিব মিয়া (৩২) ও বাসের চালক সাদ্দাম হোসেন (৫৫)এর পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত বাকি দুই জনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। লাশগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পরবর্তী আইগত ব্যবস্থা গ্রহন শেষে লাশগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন চলছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাস এবং সড়কে পড়ে যাওয়া বিলবোর্ড সরানো হয়েছে। দূর্ঘটনার পর প্রায় দুইঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।