কক্সবাজারে র‌্যাবের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ বিএনপি নেতার মৃত্যু, বুধবার হরতাল

কক্সবাজারের উখিয়ায়  বিএনপি-র‌্যাবের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ওয়ার্ড বিএনপির নেতা জাগির হোসেন (৩৮) মারা গেছে। সংঘর্ষের পর আজ মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকালে উখিয়া থানায় বিএনপির ৪২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব।

এদিকে র‌্যাবের গুলিতে দলীয় কর্মী নিহত হয়েছে দাবি করে বুধবার সকাল সন্ধ্যা কক্সবাজার জেলায় হরতাল ডেকেছে বিএনপি।

জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর রাতে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পাইন্যাশিয়া গ্রামে র‌্যাবের টহল দিতে গেলে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে হামলা চালায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ও তার অনুসারীরা। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। দু’পক্ষের গোলাগুলিতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। সেই সময় গুলিবদ্ধ হন ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাগির হোসেন। সেদিন রাতে জাকিরকে গোপনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায় বিএনপি নেতাকর্মী ও স্বজনরা। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, জাগির র‌্যাবকে ডাকাত অ্যাখা দিয়ে হামলার জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষজনকে জড়ো করেন।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী বলেন, ‘গ্রামের নিরীহ লোকজন ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর বিনা উস্কানিতে গুলি চালায় র‌্যাব ও সরকার দলীয় নেতারা। তাদের গুলিতে আহত হয় জাগির। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি চমেকে মারা যান। এ কারণে কক্সবাজার জেলা বিএনপি বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে।’

র‌্যাবের ওপর হামলার ঘটনা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দাবি করে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থেকে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ নাশকতার মিথ্যা মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে।

গভীর রাতে আসামি ধরার নামে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরবাড়িতে র‌্যাবের তল্লাশির ঘটনায় সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ হচ্ছে জানিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জাগির লোকজন ডাকেননি। মসজিদের মাইকে ডাকাত আসার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের লোকজন। তারাই পরিকল্পিতভাবে র‌্যাবের ওপর হামলা করিয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

র‌্যাব-১৫ এর মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সালাম চৌধুরী বলেন, ঢাকায় নাশকতা চালানোর দায়ে উখিয়া থানায় একটি মামলার প্রধান আসামি করা হয় সোলতান মাহমুদকে। তার গ্রাম পাইন্যাশিয়া। সেখানে অধিকাংশ মানুষ বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক। রবিবার রাতে নাশকতা মামলার আসামিদের ধরতে র‌্যাবের একটি টহল দল পাইন্যাশিয়া গ্রামে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীসহ কয়েকশ মানুষ র‌্যাবকে ঘিরে অন্ধকার রাতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এসময় গুলিও ছোড়া হয়। এক পর্যায়ে কিছু লোক ইট-পাটকেল ছুড়লে র‌্যাবের একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে র‌্যাব কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।’

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে আহত জাগির হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের উপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি তদন্তপূর্বক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।