এক বেড দিনে ৩-৪ বিক্রি হয় হৃদরোগ হাসপাতালে

রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে ৪১৪ শয্যার হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে ১২০০ শয্যার করা হয়। এরপরও ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি আছেন এই হাসপাতালে। সিট সংকটের এ সুযোগে চলছে সিটবাণিজ্য।

সবচেয়ে বেশি সিটবাণিজ্যে হয় এই হাসপাতালের পিসিসিইউতে (পোস্ট করোনারি কেয়ার ইউনিট)। এ ইউনিটে এক বেড দিনে তিন-চারবার বিক্রি হয়। সিসিইউতে থাকা রোগীদের অবস্থা একটু ভালো হলে তাদের পিসিসিইউতে নেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন রোগীকে এখানে চার-পাঁচ ঘণ্টা থাকতে হয়, তারপর তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। ফলে দিনে একাধিকবার বেড খালি হয় আর তা বিক্রি হয়।

সরেজমিনে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ঘুরে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে আনসার, ওয়ার্ড বয়, ওয়ার্ড মাস্টার, আয়া প্রভৃতি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি অসাধু চক্র গড়ে উঠেছে। তারা রোগীদের বিভিন্ন উপায়ে জিম্মি করে টাকা আদায় করে। রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরা পর্যন্ত বা রোগীর মৃত্যু হলে ছাড়পত্রের জন্য প্রতিটি ধাপে অর্থ আদায় করা হয়।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হৃদরোগ হাসপাতালে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী থাকায় ফ্লোর বা করিডরে স্থান হয় অনেক রোগীর। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও বেড পাওয়া যায় না। ওয়ার্ড মাস্টার, আনসার, ওয়ার্ড বয়, আয়াদের টাকা দিলে সহজেই সিট পাওয়া যায়। একই অবস্থা জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও। ইসিজি ও ইকো করতেও গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর বেডের জন্য কোনো চার্জ দিতে হয় না রোগীদের। কিন্তু এখানে ফ্রিতে বেড পেয়েছেন এমন কাউকে পাওয়া খুব কঠিন। ওয়ার্ড মাস্টার, আয়া, আনসারদের সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা বেড খালি হলেই তা দখল করে নেয় এবং ৭০০-১২০০ টাকার বিনিময়ে তা বিক্রি করে। আগে ভর্তি হয়েও টাকা না দিলে বেড পান না রোগীরা।