লাল লিপস্টিকের প্রতি নারীর দুর্বার আকর্ষণের পেছনে রয়েছে এক অন্তহীন সংগ্রামের ইতিহাসও। নারীর লাল ঠোঁট কখনো কখনো হয়ে উঠেছে তার অধিকার আদায়ের স্মারক, কখনো তা প্রতিবাদের ভাষা, দুঃসাহসের চিহ্ন। লিখেছেন পরাগ মাঝি
লাল লিপস্টিকের গোড়ার কথা
লিপস্টিক শব্দটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ১৮৮০ সালে। আর ১৮৮৪ সালে প্যারিসের একটি সুগন্ধি প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো বাজারে ছাড়ে লিপস্টিক। এর মানে এই নয় যে, তখন থেকেই নারীদের ঠোঁট লাল হতে শুরু করে। নিজের ঠোঁটকে চুনি পাথরের মতো লাল করে সাজাবার প্রচলন নারীদের মধ্যে ছিল আরও অনেক আগে থেকেই। এই লাল সৌন্দর্যকে নারীরা তাদের সামাজিক মর্যাদা, নেতৃত্ব এবং অমিত শক্তির চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখা যায় প্রাচীন মিসরের রানী ক্লিওপেট্রা নিজের ঠোঁটকে লাল রঙে সাজাতেন। এক ধরনের পিঁপড়া এবং গুবড়ে পোকা থেকে তিনি এই লাল রঞ্জক সংগ্রহ করতেন। শুধু তাই নয়- লাল ফুল, এক ধরনের লালচে মাটি এমনকি মাছের আঁশ থেকেও ঠোঁট রাঙাবার উপকরণ সংগ্রহ করতেন তিনি।
ষোড়শ শতকে প্রচলিত বিশ্বাসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিটিশ রানী প্রথম এলিজাবেথও ঠোঁটে লাল রং ব্যবহার করতেন। সেই আমলে এমন বিশ্বাস ছিল যে, নারীর ঠোঁট লাল করার অর্থ হলো তিনি ইশ্বরকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। সে-সময় কোনো নারীর লাল ঠোঁট মানেই ছিল শয়তানের সঙ্গে তার মিলিত হওয়ার ইচ্ছা। রানী প্রথম এলিজাবেথ এক্ষেত্রে লাল আঁঠালো কিছু ব্যবহার না করে লাল রঙের পাউডার ব্যবহার করতেন। আর এই পাউডার তৈরি করা হতো বেশ কিছু ভয়ংকর রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে। এসব রাসায়নিকের মধ্যে অন্যতম ছিল সাদা সিসা। যা পাকস্থলিতে গেলে মানুষের মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশ রানী ভিক্টোরিয়া কসমেটিক্স সামগ্রী হিসেবে লিপস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। কারণ সেই সময়টিতে পতিতা কিংবা দুশ্চরিত্রের নারীদের মধ্যে লিপস্টিক ব্যবহারের হার বেড়ে গিয়েছিল। বিংশ শতকে লিপস্টিকের জনপ্রিয়তা ফিরে আসার আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
বিংশ শতকের গোড়ার দিকে এক ফরাসি অভিনেত্রী ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে ব্রিটেনের একটি মঞ্চে ওঠে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। সেই অভিনেত্রী আর কেউ নন, সারাহ বার্নহার্ড। পাশ্চাত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তাকে আজও মানা হয়। নিষিদ্ধ এই লিপস্টিকের সৌন্দর্যে উপস্থিত দর্শকদের তিনি বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিলেন। তখনকার সময়ে অনেকে গোপনে টিউব আকারের লিপস্টিক ব্যবহার করলেও তা ছিল কেবল বাড়ির অন্দর মহলেই সীমাবদ্ধ। নিজের লিপস্টিক টিউবটিকে ফরাসি ভাষায় ‘স্টাইলো ডি’মর’ বলতেন সারাহ। ইংরেজিতে যার অর্থ দাঁড়ায়- ‘লাভ পেন’ বা ভালোবাসার কলম।
বিপ্লবে লিপস্টিক
১৯১০ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির ফিফ্থ এভেন্যুতে ‘রেড ডোর স্যালোন’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মার্কিন সমাজের প্রচলিত রীতি ভেঙে দিয়েছিলেন এলিজাবেথ আর্ডেন নামে এক নারী। কারণ সেই সময়ের পুরুষশাসিত সমাজে একজন নারী হয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া ছিল বিরলতম ঘটনা, মাত্র কয়েক দশক আগেই যেখানে ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক হওয়ার অধিকার পেয়েছিলেন মার্কিন নারীরা।
১৯১২ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির ফিফ্থ এভেন্যুতে অবস্থিত এলিজাবেথ আর্ডেনের সেই স্যালোনের সামনে দিয়েই যাচ্ছিল ভোটাধিকারের দাবিতে মার্কিন নারীদের একটি মিছিল। আর্ডেন ছিলেন এই আন্দোলনের একজন ঘোরতর সমর্থক। আর এই আন্দোলনের চেতনা থেকেই তিনি ‘রেড ডোর রেড’ নামে একটি লাল লিপস্টিকের ডিজাইন করেছিলেন। যদিও তখন পর্যন্ত মার্কিন নারীদের মধ্যে লিপস্টিকের প্রচলন ছিল না বললেই চলে। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ৪৪ বছরের কম বয়সী কোনো নারীর লিপস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিজের স্যালোনের সামনে দিয়ে নারীদের মিছিলটি যাওয়ার সময় কয়েকজন নারীর ঠোঁটে নিজের হাতে লাল লিপস্টিক মাখিয়ে দিয়েছিলেন আর্ডেন। শুধু তাই নয়, মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের তিনি একটি করে লিপস্টিক উপহার দিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন লাল রংটি যেন মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের আশা, ক্ষমতা, শক্তি এবং পারস্পরিক আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। সত্যিকার অর্থেই এই লাল লিপস্টিক মার্কিন নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই ১৯২০ সালে ভোটাধিকার অর্জন করে তারা।
পরবর্তী কয়েক দশক ধরে লাল লিপস্টিকের জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বাড়তেই থাকে। গ্রেটা গার্বো, ক্লারা বো, গ্লোরিয়া সোয়ানসন এবং লুইস ব্রুকসের মতো পুরনো আমলের হলিউড অভিনেত্রীরা যৌন আবেদন এবং নারীবাদের প্রতীক হিসেবে লাল লিপস্টিকের ব্যবহার শুরু করেন। তাদের হাত ধরেই দুই ঠোঁটের বিশেষ ভঙ্গিমা ‘কিউপিডস বো’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ঠোঁটের স্বাভাবিক সীমানার ভেতরে লাল রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করে ‘কিউপিড বো’ কায়দায় কোনো নারীকে দেখলে মনে হয় তিনি একটি চুম্বন উড়িয়ে দিচ্ছেন। গাঢ় লাল রঙে ঠোঁটের এই বিশেষ ভঙ্গিটি পুরুষদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিত। অভিনেত্রীদের ‘কিউপিড বো’ ভঙ্গি সিনেমায় একটি বাড়তি মাত্রা যোগ করে। কিন্তু ১৯৩০ সালের আগে এসবের কোনো কিছুই হয়নি। কারণ ওই সময়ের পরই ব্যাপকহারে রঙিন চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। রঙিন চলচ্চিত্রের হাত ধরেই লাল লিপস্টিক সাধারণ মানুষের মনেও আলোড়ন তোলে।
সে আমলের অভিনেত্রীরা লাল লিপস্টিক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আবেদনময়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনোযোগ তাদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের সেই আত্মবিশ্বাসকে অনুকরণ করতে শুরু করেন প্রায় সব নারী। ফলে বাজারে টনের পর টন লাল লিপস্টিক বিক্রি হতে শুরু করে। অনেক নারী লাল বেরি ফল এমনকি বারগুন্ডি নামে রক্তবর্ণের একটি মদ দিয়েও তাদের ঠোঁট রাঙাতে শুরু করেন।
মূলত পাশ্চাত্যের ফ্ল্যাপার যুগের নারীরাই লাল লিপস্টিকের বহুল ব্যবহার শুরু করেছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলোতে ফ্ল্যাপাররা হলেন নারীদের এমন একটি প্রজন্ম যারা ১৯২০ সালের দশকে খাটো স্কার্ট পরতেন, ববকাট চুল রাখতেন, জাজ সংগীত শুনতেন এবং কোনো কিছু পছন্দ না হলে রূঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতেন। জনসমক্ষে ধূমপান, মদ্যপান এবং মুখে মেকআপ নেওয়ারও বাতিক ছিল তাদের। চোখের পাপড়িতে স্মোকি শেড দেওয়া ছাড়াও ভ্রু প্লাক করে কিছুটা চিকন করে নিতেন। এইসব প্রবণতার মধ্য দিয়ে তারা মূলত প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে তাচ্ছিল্য ও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
সাহস সঞ্চয়ে লাল লিপস্টিক
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে যখন নারীদেরও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া শুরু হয় তখন স্বদেশ প্রেমের মতো লাল লিপস্টিকও একটি জনপ্রিয় বিষয়ে পরিণত হয়। সম্মুখযুদ্ধ ছাড়াও সৈন্যদের অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য সমরাস্ত্র কারখানাগুলোতে এসময় কাজ করতে শুরু করেন বিপুল সংখ্যক নারী। মনোবল চাঙ্গা রাখতে তারা সবসময় লাল লিপস্টিক ব্যবহার করতেন। কারখানার বাথরুমগুলোতে প্রচুর সংখ্যক লিপস্টিক তারা মজুদ করে রাখতেন। সেই সময়টিতেই ‘ভিক্টরি রেড’ নামে একটি লিপস্টিকের ডিজাইন করেছিলেন এলিজাবেথ আর্ডেন। মার্কিন নারী যোদ্ধাদের লিপস্টিকের জোগান দিতে সে সময় আরও বেশি কয়েকটি প্রসাধনী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে এই কথাটি সবারই জানা ছিল যে, এডলফ হিটলার লিপস্টিক পরা খুব অপছন্দ করতেন। কোনো নারী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকে অবশ্যই লিপস্টিক ব্যবহার নিয়ে কড়াভাবে নিষেধ করে দেওয়া হতো। তাই অবাধ্যতার নিদর্শন হিসেবেও সে সময় মার্কিন নারী সৈন্যরা লিপস্টিক ব্যবহার শুরু করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এলিজাবেথ টেইলর ও মেরিলিন মনরোর মতো তারকারা লাল লিপস্টিকের আবেদন সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সৌন্দর্য চর্চার অংশ হলেও পৃথিবীর সব নারীর যোগসূত্র তৈরি করে এই লিপস্টিক।
আজকের দিনেও লাল লিপস্টিক পরলে কোনো কোনো নারীর মধ্যে বিদ্রোহী মনোভব কাজ করে। তারা এক ধরনের শক্তি অনুভব করেন।
২০০৫ সালে ক্যানসার বিজয়ী নারী পরিচালক জেরালিন লুকাস একটি বই লিখেন, যেখানে তিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে ‘ম্যাসেকটমি’-তে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষাপটটি তুলে ধরেছেন। ম্যাসেকটমি হলো- এমন একটি অস্ত্রোপচার, যার মাধ্যমে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের স্তন কেটে ফেলা হয়। জেরালিন তার বইয়ের শিরোনাম দিয়েছিলেন, ‘হোয়াই আই ওর লিপস্টিক টু মাই ম্যাসেকটমি’। অস্ত্রোপচারে যাওয়ার আগে নিজের ঠোঁটগুলোকে লিপস্টিকে রাঙিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তার কাছে লাল লিপস্টিক হলো এমন একটি রং যা সাহসী নারীরাই পরে।
বিদ্রোহ আর বিক্ষোভে লাল লিপস্টিক এখনো নারীর মহামূল্যবান অস্ত্র। ২০১৫ সালে ম্যাসিডোনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলার সময় এক নারী ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়ানো এক পুলিশ অফিসারের বর্মে লাল চুমু এঁকে দিয়েছিলেন। এই চুমুটি পরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সবচেয়ে ব্যতিক্রম কা-টি ঘটেছিল নিকারাগুয়ায়। কারণ ২০১৮ সালে নিকারাগুয়ায় নারীদের পাশাপাশি অসংখ্য পুরুষ ঠোঁটে লাল লিপস্টিক মেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন সরকারবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবিতে। সেই আন্দোলনে মারলিন চাও নামে এক নারীকর্মীকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুহূর্তে তিনি তার ঠোঁটে লাল লিপস্টিক মেখেছিলেন।
গত বছর দেশজুড়ে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন চিলির ১০ হাজার নারী। তাদের চোখ কালো কাপড়ে বাঁধা ছিল। মাথায় ছিল লাল স্কার্ফ আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক।
লাল লিপস্টিকের মনস্তত্ত্ব
লাল লিপস্টিক নারীদের শুধু আত্মবিশ্বাসই বাড়ায় না, এর মর্ম লুকিয়ে আছে আরও গভীরে। ‘দ্য লিপস্টিক এফেক্ট’ নামে একটি অর্থনৈতিক তত্ত্বে মনকে চাঙ্গা করতে লিপস্টিক যে ভূমিকা রাখে তা বর্ণনা করা হয়েছে। কঠোর পরিশ্রমের সময় নারীরা বিলাসবহুল কোনো সামগ্রীর বিপরীতে শুধু একটি লাল লিপস্টিককে বেছে নিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আমেরিকার প্রসাধনী কোম্পানিগুলো দাবি করে, ২০০১ সালে নাইন-ইলেভেন হামলার পর দেশটিতে লিপস্টিকের বিক্রি বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন নারী সৈন্যদের পাশাপাশি সাধারণ গৃহিণীদের মধ্যেও লিপস্টিক ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়েছিল। ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখা যায়- কঠোর সংগ্রাম এবং আপোসের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হয়েছে নারীর। তবে, তাদের অনেকেই কিছুটা স্বস্তি এবং শক্তি খুঁজে পেয়েছেন সাধারণ মামুলি একটি লাল লিপস্টিকে।
লিপস্টিকে নানা ধরনের বিবর্তন এসেছে। নানা রঙে নিত্যনতুন লিপস্টিকের ছড়াছড়ি এখন বাজারে। কিন্তু লাল লিপস্টিকের আবেদন যেন চিরদিনের। মার্কিন নারীবাদী ব্লগার কেটি ভেলভেট বলেন, লাল লিপস্টিক মাখলেই আমার মনে পড়ে সেই সব নারীর কথা, যারা একদিন ফিফ্থ এভেন্যু কাঁপিয়ে ভোটের অধিকার দাবি করেছিলেন। মনে পড়ে সেই নারীদের কথা, বিংশ শতকের গোড়ার দিকে যারা কর্র্তৃত্ববাদী সমাজব্যবস্থা এবং তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যাবতীয় অনাচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছিলেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নারীদের কথা মনে পড়ে, যারা শত্রুর বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়ে বিজয়ের নিশানা এঁকেছিলেন।’
কেটির মতে, লাল লিপস্টিক হলো শক্তির প্রতীক। এর মানে এই নয় যে, শুধু লাল লিপস্টিকই নারীর শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তবে, এই রঙের ইতিহাস অনুপ্রেরণাদায়ক। এটা নারীদের তার অতীত লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
(দেশ রূপান্তরে পূর্বে প্রকাশিত)