‘কারার ওই লৌহ কপাট’ -পিপ্পা-য় এআর রহমানের রিক্রিয়েশন শুনে রীতিমতো ক্ষিপ্ত বাঙালিরা। আসুন জেনে নেই কাজী নজরুল ইসলাম কোন সময় এই গানটির সৃষ্টি করেছিলেন।
১৯২১ সালে ডিসেম্বর মাস-কাজি নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে কলকাতায় ফেরার পর সৃষ্টি করেন ‘কারার ওই লৌহ কপাট ভেঙে ফেল কর রে লোপাট।’ বাংলার ইতিহাস হাঁতড়ালে সবথেকে সেরা বিদ্রোহের গান প্রসঙ্গ এলে এই গান আসে। সেই সময় নজরুলের ‘বিদ্রোহ’ চিন্তায় ফেলেছিল রাজশক্তিকে।
নজরুলের ওপর নজরদারি শুরু হয়। তাঁর বহু কাব্যগ্রন্থ জব্দ করা হয়েছিল। ১৯২৪ সালের কাছাকাছি সময়-নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ভাঙার গান। যে গ্রন্থে ছিল ‘কারার ওই লৌহ কপাট।’ ১৯৩০ সালের কাছাকাছি সময়, নিষিদ্ধ করা হয়েছিল নজরুল ইসলামের প্রলয় শিখা। তাঁর আগে সরকার বিরোধী প্রচারের জন্য তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর তিনি নিজের সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কবিতার জন্য এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড পান। তাঁকে প্রথমে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে গেলেও সেখান থেকে পাঠানো হয়েছিল আলিপুর জেলে। এরপর সেখান থেকে কবিকে পাঠানো হয়েছিল হুগলির জেলে। তাঁকে কাছে পেয়ে উজ্জীবিত হয়েছিলেন অন্যান্য বন্দিরাও। সেই সময় হুগলির জেলের সুপার আর্সটন সাহেবের অত্যাচারের কুখ্যাতি ছিল সর্বত্র।
তাঁকে ব্যাঙ্গ করে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত গানের প্যারোডি করেছিলেন নজরুল। খোলা গলায় গেয়ে উঠেছিলেন, তোমারি জেলে পালিছ ঠেলে তুমি ধন্য ধন্য হে।
আর এই বিদ্রোহের ভাষা একেবারেই মেনে নিতে পারেনি রাজশক্তি। তাঁর উপর শুরু হয় অমানবিক অত্যাচার। বন্ধ করা হয়েছিল ভাত। পরিবর্তে মাড় খেতে দেওয়া হতো। কিন্তু, নজরুল ফুঁসে ওঠেন। এই অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি অনশন শুরু করেছিলেন।
তাঁর স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার খবর সামনে আসার পর সেন্ট্রাল জেলে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠান স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি লিখেন, গিভ আপ হাংগার স্ট্রাইক, আওয়ার লিটারেচার ক্লেইমস ইউ।' কিন্তু, নজরুলের কাছে সেই বার্তা পৌঁছতে দেননি সংশোধনাগারের কর্তারা।
এরপর মাতৃসমা বিরজাসুন্দরী দেবীর অনুরোধে ৩৯ দিনের মাথায় অনশন ভাঙেন তিনি। এরপর তাঁকে বহরমপুরের জেলে পাঠানো হয়। যেখানে তিনি পেয়েছিলেন শিবরাম চক্রবর্তীকে। নিজের গানের থেকে রবীন্দ্রসংগীত ভালো গাইতেন তিনি, লিখেছিলেন শিবরাম।