‘এসআই ক্লান্ত’, লোকেশন জেনেও অপহৃতকে উদ্ধার করা হলো না

কক্সবাজার শহরের লালদিঘীর পাড় থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাহিদুল ইসলাম শাকিলকে (১৭) অপহরণ করে একটি চক্র। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ট্রাকিং করে লোকেশন বের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু এর পর ওই কিশোরকে উদ্ধারে কোন ধরণের তৎপরতা চালাননি পুলিশ বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।পরে অপহৃতের স্বজনরা বিকাশে মুক্তিপণ দিয়ে রাতেই শাকিলকে মুক্ত করে।

শাকিল কক্সবাজার জেলার মহেশখালি উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মিজ্জির পাড়া গ্রামের মুহাম্মদ ইছহাকের ছেলে।

এ বিষয়ে অপহৃতের চাচাত ভাই আবু হেনা মোস্তাফা কামাল বলেন, বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সকালে পানের দোকানে চাকরির জন্য মহেশখালী থেকে কক্সবাজার শহরে আসেন শাকিল। পরে শহরের গুণগাছতলা থেকে তিনি হেটে ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্পে যাওয়ার পথে লালদিঘীর পাড় থেকে অপহৃত হন। ওইদিন বিকেল ৪টায় শাকিলের নম্বর থেকে আমার ফোনে কল আসে। ওই সময় অপহরণকারী চক্র ডিবি পরিচয় দিয়ে আমাকে  জানায়, শাকিলকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে হলে বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। বিষয়টি আমার কাছে রহস্যজনক মনে হয়।

তিনি আরও বলেন, শাকিল অপহরণের শিকার হয়েছে সেটি বুঝার পর আমি কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত)র সাথে দেখা করি। এর পর ওসি তদন্ত নম্বরগুলো ট্রাক করে। আমাকে জানায় লোকেশন অনুযায়ী অপহৃত খুরুশকুল আছে। ওই সময় তিনি এসআই আজিজ নামের এক পুলিশ অফিসারকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন। পরে আমি থানা থেকে চলে আসি।

পুলিশের কাছ থেকে আইনি সহযোগিতা পায়নি অভিযোগ করে মোস্তাফা কামাল বলেন, এদিকে সময় যতই গড়াচ্ছিল ততই অপহরণকারীরা ফোন করে ভিকটিমের কান্নার আওয়াজ শোনাচ্ছিল আমাদের। বিষয়টি আমি এসআইকে জানাই। কিন্তু তিনি কোন রেসপেন্স করেননি। উল্টো আমাকে বলেছেন পরিদর্শক (তদন্ত) সাথে যোগাযোগ করতে। পরে উনার সাথে দেখা করলে তিনি আমাকে বলেন এসআই আজিজ সারাদিন ডিউটি করে ক্লান্ত।

ভিকটিমের ভাই আরও বলেন, পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে  অবশেষে বাধ্য হয়ে বিকাশে মুক্তিপণ পাঠাই। তারপর বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পোলা বাবুর পেট্রোল পাম্পের পাশে জাহিদকে নামিয়ে দেয় অপহরণকারীরা।

এ বিষয়ে অপহৃত শাকিল বলেন, শহরের লালদিঘীর পাড়ে কয়েকজন লোক আমাকে ঘিরে ধরে। তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক মেয়ের সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগে সিএনজিতে তুলে ফেলে। অথচ মেয়েটিকে আমি চিনি না। পরে আমাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মারধর করে এবং মুক্তিপণ আদায় করে।

তিনি  আরও বলেন, আমাকে যে ঘরে রাখা হয়েছিল সেখানে আরও দু'জনকে বেধেঁ রেখেছিল চক্রটি। এমনকি তাদের খাবারও দেয়া হয়নি। বরং মারধর করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করানো হয়।

কক্সবাজার সদর  থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কায়সার হামিদ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি একজন অফিসারকে দায়িত্ব দিই। ওনি বিষয়টি দেখেছেন।’

ভুক্তভোগী পুলিশের সহযোগিতা পায়নি-এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

তবে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে হত্যা, অপহরণ, ছিনতাইসহ নানান অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার অন্যতম কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফেলতি ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা।’

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ক্লান্তির কারণে সেবা দিতে পারছে না এটা বলার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’