ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধ ঘিরে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। আজ রবিবার দুপুরে স্থানীয় সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ মাঠ থেকে মিছিলটি বের করে আওয়ামী লীগ।
মিছিলের নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহান, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালামের মেয়ে ওয়াহিদা হোসেন রূপাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মিছিলের একাংশের সামনে আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে অংশ নিতে দেখা গেছে। শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ ছাপিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে মিছিলের সামনে থাকা অস্ত্রধারীকে নিয়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩১ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘সাবেক এমপির নেওয়া আর্থিক সুবিধা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ’ এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার প্রতিবাদে ও বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বিক্ষোভ সমাবেশে নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালামের মেয়ের জামাইয়ের জাহিদ হাসান প্রীতমের গানম্যানকে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা গেছে।
এই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। জানার পর অস্ত্রধারী কামরুজ্জামানকে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দূরে সরিয়ে দেই। কামরুজ্জামানের শটগানটি লাইসেন্স করা। তাছাড়া, কামরুজ্জামান আব্দুস সালামের জামাতা জাহিদ হাসান প্রীতমের গানম্যান।
জানা গেছে, অস্ত্রধারী মো. কামরুজ্জামান বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। কামরুজ্জামান মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালামের মেয়ের জামাতা জাহিদ হাসান প্রীতমের গানম্যান।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালামের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ দেখায়।
ময়মনসিংহ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শামীম হোসেন বলেন, এরই মধ্যে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অস্ত্রটি (১২ বোর শটগান)। কারোর লাইসেন্স করা অস্ত্র থাকলেও তা প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, কারও কাছে লাইসেন্সধারী অস্ত্র থাকলেও তা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করার সুযোগ নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রঞ্জিত কুমার বর্মণ একটি আইনি নোটিশ দেন সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালামসহ ৬ জনকে। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সিদ্দিক হোসেনে পক্ষের নোটিশটি দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়েছিল, ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে আব্দুস সালামের সংসদ সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। তাই সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় নেওয়া রাষ্ট্রীয় আর্থিক সুবিধা (শুল্কমুক্ত গাড়িসহ) ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরৎ দিতে বলা হয়।
নোটিশটি নিয়ে গত ৩১ অক্টোবর একটি সংবাদ মাধ্যম ‘সাবেক এমপির নেওয়া আর্থিক সুবিধা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকসহ কয়েকজনকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শফিউল আলম রাসেল।