দেশে দ্বিতীয়বারের মতো হয়ে গেল কোক স্টুডিও বাংলার কনসার্ট। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের সুরের মূর্ছনার ব্যাপ্তি ছড়িয়েছে বেশ, রেশ কাটেনি এখনও।
পশ্চিম তীরে যখন হামাস-ইসরায়েল সংঘাত চলছে তখন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পণ্য কোকাকোলার এই আয়োজন নিয়ে শুরুতেই বিতর্ক শুরু হয়। আসে বয়কটের ডাক। তবে কনসার্টের পর যেসব ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে তাতে এই কনসার্ট ঘিরে বিতর্কের রেশ আরও দীর্ঘ হলো।
ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোক স্টুডিও বাংলার কনসার্টে দর্শকসারিতে থাকা তরুণ-তরুণীদের ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। যেখানে তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। আপত্তিকর বলার কারণ হলো অন্যরা তো বলছেনই সেই সঙ্গে যাদের ছবি ফেসবুকে শেয়ার হচ্ছে তারা নিজেরাই এসব ছবি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করছেন। অর্থাৎ, তারা নিজেরাই নিজেদের সেই অবস্থা নিয়ে বিব্রত।
কনসার্ট চলাকালে দর্শকসারিতে দাঁড়িয়ে চুম্বন কিংবা জড়িয়ে ধরার দৃশ্য দেখা গেছে অহরহ। যেগুলোকে অশ্লীলতা উল্লেখ করে অনেকে বলছেন, একেবারে প্রকাশ্যে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়।
প্রান্ত নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কনসার্টের ভেন্যু এখন ডেটিং প্লেস হয়ে গেছে। ৫০০-৬০০ টাকা খরচ করে ৩-৪ ঘণ্টা গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে অন্তরঙ্গ সময় কাটানো যায়। এটাতো বেশ ভালো সুবিধা। এখন একটা রেস্টুরেন্টে এক ঘণ্টা প্রেমিকা নিয়ে বসে থাকলেও মিনিমাম এক দেড় হাজার টাকা খাবারের বিল আসে। সে তুলনায় এটা অনেক সাশ্রয়ী। কাপলরা রেস্টুরেন্টে বসে যতটুকু অশ্লীলতা ছড়ায় এরা তার থেকেও দুই ধাপ এগিয়ে। অনেককে দেখেছি যেসব কার্যকলাপ রুমে বসে করার কথা তারা কনসার্টে বসেই তার ৯৫% সেরে ফেলছে।’
জেফরিন নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘কোক স্টুডিও বাংলার একটা ভাইরাল ভিডিও দেখলাম। যেখানে তরুণ-তরুণীরা একত্রিত হয়ে একে অপরকে প্রকাশ্যে জড়িয়ে ধরে কিস করছে। ভিডিও ধারণকারী এর নাম দিয়েছে কিস স্টুডিও বাংলা। নামটা যুৎসই হয়েছে বটে! পুরোটা দেখার রুচি হয়নি। বমি আসছিল। মেয়েগুলোর পোশাক-আশাক দেখে মনে হলো ভুল করে কোনো পশ্চিমা মুভির সিনে ঢুকে পড়েছি। এই চরম নোংরামি নিয়ে কাউকে কোনো প্রতিবাদও করতে দেখলাম না। কনসার্টে অংশ নেওয়া এই তরুণ-তরুণীদের সংখ্যাটা মোটেও কিন্তু কম নয়। প্রচুর উপস্থিতি। কুকুরের পর্যায়ে নেমে একেকটা যা ইচ্ছা তাই করছে। এই ছেলে-মেয়েগুলোর অভিভাবকেরা কী কিছুই দেখে না?’
যদিও কনসার্টের আগে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিল আয়োজকরা। এই যেমন নির্দেশনাতে সেখানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ধূমপানের দৃশ্য দেখা গেছে। কনসার্ট শেষে নানা অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার কথাও বলেছেন দর্শকরা। তবে একথা সত্যি যে কনসার্ট করতে গিয়ে অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে আয়োজকদের। বিতর্ক ও অব্যবস্থাপনার মাঝেও উচ্ছ্বাসভরা মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল আয়োজন।
বাংলা গানের এই কনসার্টে স্টেজে ছিল ব্যান্ড লালন থেকে শুরু করে আর্টসেলের উপস্থিতি। সঙ্গে কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় গান ‘কথা কইও না’ থেকে ‘দেওড়া’।
মমতাজ বেগম, বাপ্পা মজুমদার, শায়ান চৌধুরী অর্ণব, প্রীতম হাসান, ইমন চৌধুরী, এরফান মৃধা শিবলু, ফুয়াদ আল মুক্তাদিরসহ আরও অনেকের গান আর পরিবেশনায় জমজমাট ছিল পুরো আয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, ইসরায়েলকে সহযোগিতা করা কোনো দেশের পণ্যভিত্তিক অনুষ্ঠান তারা চান না। তবু, সংগীত যখন মধ্যখানে দাঁড়ায়, তখন অনেক সমস্যাই মাটিতে মিশে সুরে সুরে বুক মেলায়।