প্রতি স্টপেজে যাত্রীদের ছবি তুলে রাখার নির্দেশ ডিএমপির

রাজনৈতিক দলের ডাকা অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র রাজধানীতে নাশকতাসহ যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করছে দুর্বৃত্তরা। একটি স্বার্থান্বেষী মহল এসব নাশকতা করে এসব হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই যানবাহনে অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধে যাত্রীদের ছবি তুলে রাখতে মালিক শ্রমিকদের নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

আজ রবিবার  (১২ নভেম্বর) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা মালিক শ্রমিকদের বলেছি তারা যেন যাত্রীদের ছবি তুলে রাখে। এ ছাড়াও আমরা আরও বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছি।

ডিএমপির নির্দেশনাগুলো হলো- স্টপেজগুলোতে বাসের ও যাত্রীদের ছবি তুলে রাখতে হবে; স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না; বাসে থাকা যাত্রীদের বাসের সহকারী সচেতন করবে; রাতে বিচ্ছিন্নভাবে বাস পার্কিং না করে কোনো উন্মুক্ত স্থানে একত্রে একাধিক বাস রেখে নিজস্ব প্রহরার মাধ্যমে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে; চালক ও সহকারী কখনই একই সঙ্গে গাড়ি রেখে খেতে বা বিশ্রামে যাবে না; ইতোমধ্যে নাশকতাকারীর তথ্য প্রদানকারীর জন্য বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে; সহকারী ছাড়া চালককে একা গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না; রাতে গাড়ির মধ্যে ঘুমানো যাবে না, অন্তত একজনের মাধ্যমে হলেও প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে; বাসের দুটো দরজা থাকলে পেছনের দরজা অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে এবং মালিক পক্ষ থেকে চালক ও সহকারীদের অবশ্যই নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করতে হবে; এছাড়া যাত্রীদের জন্য সতর্কতামূলক স্টিকার বাসে লাগিয়ে দিতে হবে।

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তায় প্রত্যেকটি জায়গায় থানা পুলিশ, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ টহল দিচ্ছে। মোটরসাইকেল পেট্রোলিংসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এরপরও সময় ও সুযোগ সন্ধানী কিছু নাশকতাকারী যাত্রীবেশে বাসে অগ্নিসংযোগ করছে। অগ্নিসংযোগের পর নাশকতাকারীরা কৌশল অবলম্বন করে আতঙ্কগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে বাস থেকে নেমে পালিয়ে যাচ্ছে। নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ বন্ধ করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাশকতাকারীরা যেখানেই পালিয়ে থাকুক না কেন তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে ডিএমপি কাজ করছে।