১৯৪৮ থেকে ২০২৩ সাল। ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস আর বাস্তুচ্যুতির গল্প যেন হাত ধরাধরি করে অগ্রসর হয়েছে। সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ছোট্ট বাড়িতে বসবাস করেন মোহাম্মাদ হানিনুন যিনি ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের সময় দেশছাড়া হন। তার মতো সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল তখন মুহূর্তের মধ্যে জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করে। সেই স্মৃতি হানিনুনের মতো শরণার্থীদের কাছে ‘নাকবা’ তথা ‘বিপর্যয়’। গাজায় ইসরায়েলের চলতি আগ্রাসনের ভয়াবহতা হানিনুনকে প্রথম নাকবার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। জীবনের ৭৫টি বছর জন্মভূমির বাইরে কাটানো হানিনুন নিজের মুঠোফোনে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের বীভৎসতার ছবি দেখছিলেন।
৮০ বছর বয়সী হানিনুন এবং তার পরিবার ১৯৪৮ সালে যেভাবে আশ্রয়হীন মানুষে পরিণত হন, তার সঙ্গে গাজার চলতি সংঘাতের মিল খুঁজে পেতে তার কষ্ট হয় না। ওই সময় লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করা হয়। হত্যা করা হয় হাজারো ফিলিস্তিনিকে। হানিনুন বলেন, ‘গাজার মানুষ কোনো সহায়তা ছাড়া এখন যেভাবে দিন পার করছে, আমরাও এক সময় তাই করেছি।’
২০ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিবাদী ইসরায়েলি সরকারকে যাবতীয় সুরক্ষা দিয়েছে। ইসরায়েলিদের অবৈধ বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে। ইউরোপ থেকে হাজার হাজার ইহুদিকে এনে ফিলিস্তিনিদের জমিতে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি গ্রাম তারশিহায় বোমাবর্ষণ করেছিল যেখানে ছিল হানিনুনের পরিবারের বসবাস। ওই হামলায় তাদের সাত স্বজন নিহত হয়।
ফিলিস্তিন ছাড়ার স্মৃতিচারণ করে হানিনুন বলেন, ওই সময় আরব রেডিও ও সরকারগুলোর তরফ থেকে বলা হতো, সাত দিনের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ফিরতে হবে। এরপর সাত সপ্তাহ যায়, সাত মাস যায়; এভাবে সাত দশকেরও বেশি সময় পার হলো।
হানিনুন জানান, তিনি যখন আসেন তখন তিনি পাঁচ বছরের শিশু। তিনি এখনো স্বপ্ন দেখেন, তিনি একদিন জন্মভূমি ফিলিস্তিনে ফিরবেন।