বিরোধীদলগুলোর বিষয়ে জাতিসংঘে অবস্থান স্পষ্ট করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা আজ সোমবার বিকেল ৩টায় জেনেভায় শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ‘ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর)’ বা সর্বজনীন পুনর্বীক্ষণ পদ্ধতির আওতায় এ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুম-খুনের অভিযোগ থেকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ—সব বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা করা হচ্ছে। এই পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, 'বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। দেশের বিরোধীদলগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করছে।'   

সভায় আইনমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। আনিসুল হক জেনেভায় এই পর্যালোচনা সভায় রোহিঙ্গা সমস্যায় ভুক্তভোগী বাংলাদেশের সংকট তুলে ধরেন এবং মিয়ানমারের চাপিয়ে দেওয়া এই সংকট বাংলাদেশের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে সরকারের অবস্থান আবারও সুস্পষ্ট করেন।   

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে চার বছর পরপর ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিগত চার বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র পর্যালোচনাধীন রাষ্ট্রকে মানবাধিকার সংক্রান্ত নানা বিষয়ে প্রশ্ন ও সুপারিশ করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ধারাবাহিকভাবে চতুর্থবার ইউপিআর প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ ২০০৯ সালে প্রথমবার, ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার এবং ২০১৮ সালে তৃতীয়বার ইউপিআরে অংশ নিয়েছিল। মূলত তিনটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এগুলো হলো সরকার দেওয়া জাতীয় প্রতিবেদন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বা সংগঠনের জোটগুলোর দেওয়া প্রতিবেদন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের কার্যালয়ের প্রতিবেদন।

জেনেভায় মানবাধিকার পর্যালোচনার এবারের সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, জাতিসংঘের জেনেভা অফিসে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সুফিউর রহমান প্রমুখ।