মেট্রোরেল কোচের ভেতরে বিজ্ঞাপন সাঁটানো হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও এবং ছবি ছড়িয়ে পড়ে মেট্রোরেলের। এরপরই বিজ্ঞাপন সাঁটানোর বিষয়ে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএন সিদ্দিক গণমাধ্যমকে জানান, একটি নামী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের জন্য তারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মেট্রোর ভেতরে যেসব জায়গায় বিজ্ঞাপন দেওয়া যেতে পারে সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা বেশ কিছু ছবি দেখেছি- তবে সেগুলো সঠিক কি না এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
এমএন সিদ্দিক জানান, ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ প্রকল্পের একজন অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি আগামীকাল মঙ্গলবার ট্রেনগুলো পরিদর্শন করবে। কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এদিকে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং ভিডিওতে দেখা যায়, বিজ্ঞাপনগুলো দরজা, জানালা এবং নির্দেশনার কাছে লাগানো। এরপর থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ফেসবুকে। ব্যবহারকারীরা বলছেন, আয় বাড়াতে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন সাঁটানোর অনুমতি দিতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই তাই হয়ে থাকে। কিন্ত এসবে একটা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হয়। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে একটা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত। কিন্ত পোস্টার কিংবা বিজ্ঞাপন দিয়ে মেট্রো রেলের সৌন্দর্য নষ্ট করা উচিত হবে না।
বিজ্ঞাপনের বিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড কোম্পানি সচিব (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেন, আইনসম্মতভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের জন্য 'বিজ্ঞাপনের জন্য' বরাদ্দ দিয়েছি। আমাদের ডিসপ্লেতেও বিজ্ঞাপন প্রচার হবে। মেট্রোরেলে বিজ্ঞাপন আয়ের একটি উৎস। সারা বিশ্বেই এটা আছে। আয় না হলে যাত্রীদের ভাড়ার খরচ বেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু শর্ত আছে। আমরা এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব কীভাবে এই শর্তগুলো যাত্রীবান্ধব হয়।