বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আবাসিক হলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢুকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় কলেজ শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতরাও ছিল বলে দাবি করেছেন আহত শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিন শিক্ষার্থীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার রাত ৮টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার ক্যাম্পাসের ছেলেদের হলে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান মুকুল।
আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন- তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার ২৪, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী স্বপ্নীল এবং আশিকুজ্জামান সজীব। আহতদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন- ইলেক্ট্রনিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব, সিভিল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আয়নান চোধুরী, ত্রিপলি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইমরান, তৃতীয় বর্ষের মো. রকিব ও অলিফ ইভনে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হলে ফিরে গেছে।
আহত শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সোমবার বিকেল ৪টায় উপস্থিত থেকে ম্যুরালের উদ্বোধন করেন। এই সভায় আবাসিক ছাত্রদের উপস্থিত থাকার জন্য রবিবার রাতে ছাত্রলীগ নামধারীরা হুমকি দিয়ে আসে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যারা কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি এমন শিক্ষার্থীদের শাসাতে তিন দফা আবাসিক হলে প্রবেশ করে তারা। তৃতীয় দফায় রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেল শোডাউন করে ক্যাম্পাসের ছাত্রাবাসের ক্যান্টিনে ভাঙচুরসহ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাকিব ভূইয়ার নেতৃত্বে ২৫ জন। সাকিব ভূইয়া পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারী। এ সময় সাকিবের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁটা নিয়ে আশরাফুল, আনাস, মাহিন চৌধুরী, তাসিন, হিমো রাকিব, শাহরিয়ার তানভীর, সিফাতসহ বহিরাগত ও শিক্ষার্থীরা ছিলো। তবে হামলাকারীদের মধ্যে বহিরাগত ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে মুখোশধারী ছিল বলে জানান আহতরা।
কলেজ শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ। এর মধ্যে একটি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং অপরটি বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর। এই দুই গ্রুপের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল।
তবে অভিযুক্তদের মধ্যে নেতৃত্বদানকারী সাকিব ভূইয়ার দাবি, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ম্যুরাল ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। ভাঙচুরে বাধা দিতে গিয়ে দুপক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে।
কলেজের সহকারী অধ্যাপক লিটন রাব্বানী বলেন, ‘আমরা আপাতত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রদের কোটা নিয়ে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের মধ্যে গ্রুপ সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ আন্দোলনের পক্ষে এবং অপর গ্রুপ বিপক্ষে। এই ঘটনা কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্যাম্পাসে হাতাহাতিও হয়েছে। এর জের ধরে নিজেদের মধ্যেই মারামারি হয়। এখন পর্যন্ত তিনজন আহত হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’ তবে প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচি না যাওয়ায় ছাত্রদের দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা এবং সংঘর্ষের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেনি। আহতদের বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।